আয়ুষ্মান ভারত, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবীমা, যুবশক্তি কিংবা অন্নপূর্ণা যোজনার মতো বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় চলতি জনগণনার গৃহগণনা পর্বে বহু পরিবার প্রকৃত তথ্য গোপন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণনাকর্মীদের দাবি, অনেক পরিবার নিজেদের আর্থিক অবস্থা ও সম্পত্তির প্রকৃত তথ্য না দিয়ে তুলনামূলকভাবে দুর্বল হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। এমনকি যৌথ পরিবার হওয়া সত্ত্বেও বাবা-মা আলাদা থাকেন, ভাইয়েরা পৃথক সংসার করেন—এমন তথ্য দিয়ে পরিবারের মাসিক আয়ও কম দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।

গ্রামাঞ্চলের একাধিক এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল বলে জানিয়েছেন গণনাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, বহু পরিবারের নিজস্ব ট্রাক্টর, ধানঝাড়াইয়ের মেশিন, মোটরবাইক কিংবা চার চাকার গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সেগুলিকে আত্মীয় বা বন্ধুর সম্পত্তি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাড়িতে দুটির বেশি ঘর থাকলেও সেই তথ্য গোপন করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গণনাকর্মীদের দাবি, সুবিধাভোগী তালিকায় নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে গৃহকর্তাদের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিতে তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের নিয়েও। গণনাকর্মীদের একাংশের দাবি, বেসরকারি চাকরিজীবীরাও রাজ্য সরকারের ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের মাসিক তিন হাজার টাকা পাওয়ার আশায় পরিবারের আর্থিক অবস্থা প্রকৃত তথ্যের তুলনায় দুর্বল দেখাচ্ছেন। অর্থাৎ সরকারি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে জনগণনার তথ্যকে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ।
যদিও জনগণনা দফতরের আধিকারিকরা বারবার মানুষকে আশ্বস্ত করছেন যে গৃহগণনায় সংগৃহীত তথ্যের সঙ্গে কোনও সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু অতীতে অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে ঘর, জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি সংক্রান্ত যোগ্যতা নিয়ে বহু মহিলা সুবিধা থেকে বাদ পড়েছিলেন বলে যে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এখনও রয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই এবার জনগণনায় সম্পত্তি ও আয় সংক্রান্ত তথ্য গোপনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় ঘর ও জমি সংক্রান্ত যোগ্যতার নিয়ম কলকাতা পুরসভা বাদে রাজ্যের সর্বত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণা সত্ত্বেও জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় ঘর ও জমি সংক্রান্ত যোগ্যতার নিয়ম কলকাতা পুরসভা বাদে রাজ্যের সর্বত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারের এই ঘোষণা সত্ত্বেও জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের একাংশের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
{{/usCountry}}এদিকে গৃহগণনার দ্বিতীয় ধাপ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। ১৪ সেপ্টেম্বর বাড়ি বাড়ি গৃহগণনার শেষ দিন নির্ধারিত হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজের প্রায় পুরোটাই শেষ করা। অধিকাংশ জেলা এবং ব্লকে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা-সহ বহু পুরসভা এলাকায় এনুমারেটররা ৯৫ শতাংশের বেশি বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন।
তবে কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যা দেখা দিয়েছে। একাধিকবার গিয়েও যাঁদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি, তাঁদের দরজায় স্টিকার লাগিয়ে নিজেদের ফোন নম্বর রেখে আসছেন গণনাকর্মীরা। বহুতল আবাসনের ক্ষেত্রে রবিবার বা ছুটির দিন ছাড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছতে সমস্যায় পড়েছেন অনেকে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কিছু এলাকায় পর্দানসীন মহিলাদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে কর্মীদের। স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-কে ঘিরে ক্ষুব্ধ কিছু মানুষও জনগণনায় তথ্য দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে জনগণনায় দেওয়া তথ্য ভবিষ্যতে কোনওভাবে যুক্ত হতে পারে।
জনগণনা আধিকারিকরা অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গৃহগণনার সঙ্গে কোনও ভাতা বা সামাজিক প্রকল্পের যোগসূত্র নেই। তাঁদের বক্তব্য, নির্ধারিত ৩৪টি প্রশ্নের বাইরে কোনও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে না। জনগণনায় সংগৃহীত সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং অন্য কোনও উদ্দেশ্যে তা ব্যবহার বা অন্য দফতরে সরবরাহ করা হবে না।
ফলে শেষ মুহূর্তে জনগণনা নিয়ে তৈরি হওয়া এই ভুল ধারণা দূর করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সঠিক জনগণনা সম্পন্ন করতে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি গুজব ও আশঙ্কা দূর করাও জরুরি হয়ে উঠেছে।