...
...
Next Story

Kolkata Roads Name Change Latest Update: লেনিন সরণি সহ একাধিক রাস্তার নাম বদলের ভাবনা, নয়া নামকরণ কাদের নামে হতে পারে?

রাস্তার নাম পরিবর্তনের জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। কমিটির সদস্য তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটিতে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং অনুমোদনের পরই তা চূড়ান্তভাবে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

Published on: Sep 14, 2026, 14:47:44 IST
Advertisement

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সুরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে ইতিমধ্যেই গোপাল মুখার্জি রোড করা হয়েছে। এবার লেনিন সরণি, কার্ল মার্ক্স সরণি, হো-চি-মিন সরণি-সহ শহরের আরও কয়েকটি রাস্তার নাম বদলের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কলকাতার একাধিক রাস্তার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রাস্তার নাম পরিবর্তনের জন্য গঠিত উপদেষ্টা কমিটি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। কমিটির সদস্য তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কমিটিতে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এবং অনুমোদনের পরই তা চূড়ান্তভাবে রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে। ফলে আপাতত এগুলিকে সম্ভাব্য নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, লেনিন সরণির নাম বদলে ভারতীয় জনসংঘের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি দেবপ্রসাদ ঘোষের নামে করার চিন্তাভাবনা চলছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পর জনসংঘের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দেবপ্রসাদ ঘোষ। তাঁর নামেই লেনিন সরণির নতুন নামকরণের প্রস্তাব উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে।

একই সঙ্গে কার্ল মার্ক্স সরণির নামও বদলানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভাব্য নাম হিসেবে সাহিত্যিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হো-চি-মিন সরণির নাম পরিবর্তন করে মার্কিন মানবাধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের নামে করার প্রস্তাবও আসতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

রাস্তার নামকরণ নিয়ে এই উদ্যোগের পেছনে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণকে ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্নের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, কলকাতায় মুঘল, পাঠান বা অত্যাচারী ব্রিটিশদের নামে রাস্তা রাখার পক্ষপাতী নন তিনি। পাশাপাশি কোনও প্রকৃত দেশভক্তের নাম প্রস্তাব করা হলে তা বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছিলেন। তবে ভগিনী নিবেদিতার মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমের কথা উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই উদ্দেশ্যেই রাস্তার নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্তিক মহারাজকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন তথাগত রায়ও। বিভিন্ন রাস্তার বর্তমান নাম, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য নতুন নাম নিয়ে এই কমিটিই প্রাথমিকভাবে আলোচনা করছে।

এর আগে কার্তিক মহারাজ প্রকাশ্যেই লেনিন ও কার্ল মার্ক্সের মতো নামের রাস্তা বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এবার সেই বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্ভাব্য নামের তালিকাও সামনে আসতে শুরু করেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, ঔপনিবেশিক বা বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিবর্তে ভারতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং দেশীয় মনীষীদের নামে রাস্তার নামকরণ করলে শহরের নিজস্ব পরিচয় আরও জোরালো হবে। অন্যদিকে বিরোধীদের যুক্তি, রাস্তার নাম পরিবর্তন না করে নাগরিক পরিষেবা, যানজট এবং পরিকাঠামোর মতো জরুরি সমস্যায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তবে শেষ পর্যন্ত কোন কোন রাস্তার নাম বদলাবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ, রাজ্য সরকারের অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত লেনিন সরণি থেকে হো-চি-মিন সরণি—কলকাতার একাধিক পরিচিত রাস্তার নাম ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বিতর্ক।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks