পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবার পৌঁছে গেল বিধানসভা পর্যন্ত। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই ঋতব্রত-সহ ১০ জন বিধায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছে রাজ্য বিধানসভা সচিবালয়। দলত্যাগ বিরোধী আইনে কেন তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ করা হবে না, সেই ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, সাত দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

নোটিস পাওয়া বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ। বিধানসভা সূত্রের দাবি, তাঁরা দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আলাদা শিবিরে থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন। নোটিসে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের ঠিক এক দিন আগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি ঋতব্রত-সহ ওই ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদন করেছেন। অর্থাৎ একই রাজনৈতিক বিরোধ এখন একসঙ্গে বিধানসভা এবং সুপ্রিম কোর্ট—দুই মঞ্চেই চলছে। এর ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত আরও আনুষ্ঠানিক আইনি লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।
তৃণমূলের ভিতরের এই দ্বন্দ্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির দু’পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারের অধিকার চেয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছে এবং অতিরিক্ত নথি চেয়েছে। মমতা শিবিরকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত জবাব জমা দিতে বলা হয়েছিল। প্রয়োজন হলে ১৭ সেপ্টেম্বর ফের শুনানি হতে পারে বলেও খবর।
ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি তৃণমূলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে বিধানসভায় ১০ বিধায়কের জবাব দেওয়ার সময়সীমা, অন্যদিকে দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}ফলে ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি তৃণমূলের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে বিধানসভায় ১০ বিধায়কের জবাব দেওয়ার সময়সীমা, অন্যদিকে দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ—দুই ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
{{/usCountry}}এই সংঘাতের সূত্রপাত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই। নির্বাচনের পরে ঋতব্রত-সহ একদল বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। ঋতব্রত পরে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদেও বসেন। অন্যদিকে মমতা-ঘনিষ্ঠ শিবির ওই বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা চেয়ে সরব হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে দলের প্রতীক নিয়ে বিরোধও নির্বাচন কমিশনের সামনে যায়।
এখন মূল প্রশ্ন, ১০ বিধায়ক তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কী ব্যাখ্যা দেন এবং স্পিকার সেই জবাবের ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেও নজর রয়েছে। ফলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন শুধু দলের গণ্ডিতে নেই; তা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের দরজাতেও পৌঁছে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ১৭ সেপ্টেম্বর কার্যত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত জোড়াফুল প্রতীক এবং ১০ বিধায়কের ভবিষ্যৎ—দুই প্রশ্নই ঝুলে রয়েছে।