...
...
Next Story

Kalita Maji: ২৫০০ টাকা মাস-মাইনে! গৃহপরিচারিকা থেকে বিধায়ক কলিতা মাজি, আউশগ্রামে নজির BJPর

Kalita Maji: নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। যা ওই একই আসনে থাকা তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহার থেকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের থেকে বেশি। আনন্দে উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা।

Published on: May 5, 2026, 21:32:27 IST
Advertisement

Kalita Maji: বহু লড়াই, জনসভা, মিটিং, মিছিল করে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। দুই তৃতীয়াংশর বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের সরকারকে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে মুহূর্তের মধ্যে। বাংলার জনগণ প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রত্যাবর্তন নয় এবার পরিবর্তন চায়। আর সেই কথা মাথায় নিয়েই আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জিতেছেন কলিতা মাজি। একেবারে পরিচারিকা থেকে হয়ে উঠলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নয়া মুখ। এক সাধারণ মহিলা থেকে বিধায়ক- কলিতা মাজির এই উত্থান যেন রাজনীতির মাঠে এক অনন্য স্বপ্নপূরণের গল্প। বিজেপির ঝড়ে বদলে যাওয়া বাংলার রাজনীতিতে তাঁর এই জয় হয়ে উঠেছে বিশেষ প্রতীক- পরিশ্রম আর লড়াইয়ের জয়।

পরিচারিকার কাজ করতেন কলিতা মাজি

গৃহপরিচারিকা থেকে বিধায়ক কলিতা মাজি (সৌজন্যে টুইটার)
গৃহপরিচারিকা থেকে বিধায়ক কলিতা মাজি (সৌজন্যে টুইটার)

গুষকাড়া পুরসভার বাসিন্দা কলিতা মাজি সংসার চালানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁরই এলাকার চারটি বাড়িতে কাজ করতেন। মাসে মিলত ২৫০০ টাকা। দিনের পর দিন সংসার চালাতে হিমশিম খেলেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর ইচ্ছে ছিল। আর সেই সূত্রেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতিতে। ২০২১ সালেও তিনি তৃণমূল প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডারের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। কিন্তু সেবার ওই আসনে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থান্ডার। ১১ হাজার ৮১৫ ভোটে পরাজয় হয়েছিল তাঁর। কিন্তু থেমে যায়নি কলিতা দেবীর লড়াই। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছেন। সেই আস্থার জোরেই বিজেপি আবার তাঁকে টিকিট দেয়- আর এবার সেই পরিশ্রমের সঠিক প্রতিদান পেলেন তিনি।

বিপুল ভোটে জয়লাভ বিজেপি প্রার্থীর

নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট। যা ওই একই আসনে থাকা তৃণমূল প্রার্থী শ্যাম প্রসন্ন লোহার থেকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটের থেকে বেশি। আনন্দে উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা। আসলে এক সাধারণ মহিলা থেকে বিধায়ক কলিতা মাজির এই উত্থান যেন রাজনীতির মাঠে এক নিম্নবিত্ত মানুষের অনন্য স্বপ্নপূরণের গল্প, যা বাস্তবিক রূপ ধারণ করেছে। বাড়িতে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। মায়ের এই সাফল্যে খুব খুশি তিনি। সদ্য নির্বাচিত বিধায়কের প্রথম কাজ কী হতে চলেছে জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে কলিতা মাজি জানিয়েছেন, 'ওইসব নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। পরে সিদ্ধান্ত নেব। তখনই আপনাদের জানাব।' এইমুহুর্তে তিনি তাঁর জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাইছেন বহু মানুষের সঙ্গে। তাঁর এই জয়ের আনন্দে কোথাও বাজনা বাজছে কোথাও আবার গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে দিচ্ছে একে অপরকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতা মাজির এই উত্থান আসলে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, তাঁর এই জয় আসলে বাংলার বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতারও প্রতিফলন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe