পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে আক্রমণ শানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তার পালটা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। বাঁকুড়ার বড়জোড়ার বীরসিংহপুর ময়দানের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো প্রশ্ন তুললেন, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে? কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ হয় না? কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে কী হয়েছিল? পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার সময় নরেন্দ্র মোদীর সরকার কী করছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘পহেলগাঁও তাহলে কি আপনারা করলেন? দিল্লিতে কিছুদিন যে ঘটনা ঘটে গেল, তাহলে কি আপনারা করলেন? অনুপ্রবেশকারী (নাকি) বাংলা ছাড়া কোথাও নেই।’
অনুপ্রবেশ নিয়ে মমতাকে নিশানা শাহের

আর অনুপ্রবেশ নিয়ে আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের বিষয়টা অনেকদিন ধরেই চলছে। বিধানসভা নির্বাচনের বছরে প্রবেশ করার ঠিক আগেই ২০২৫ সালের ৩৬৪ তম দিনে সেই ঝাঁঝটা বাড়িয়ে তোলেন শাহ। তিনদিনের কলকাতা সফরের মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে শাহ দাবি করেন যে মমতা সরকারের জন্যই পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত নিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে।
রাষ্ট্রীয় গ্রিড হবে, পাখিও গলতে পারবে না, হুংকার শাহের
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের যে ঘটনা ঘটছে, তা নেহাতই রাজ্যের বিষয় নয়। পুরো বিষয়টির সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। তাই পশ্চিমবঙ্গে এমন মজবুত সরকারের প্রয়োজন আছে, যে সরকার সীমান্ত দিয়ে চিরকালের মতো অনুপ্রবেশ বন্ধ করে দেবে। আর সেই কাজটা বাস্তবায়নের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় গ্রিড তৈরি করা হবে। তার ফলে সীমান্ত দিয়ে মানুষ কেন, একটি পাখিও পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে পারবে না বলে আশ্বস্ত করেন শাহ।
সেই রেশ ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য মমতা সরকার জমি দেয় না কেন্দ্রকে। আর পুরো ভারতে একমাত্র একটি সরকারই এরকম কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গে যে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তাতে প্রশ্রয় দিচ্ছেন মমতাই। সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয়ের দাবি খারিজ মমতার
{{/usCountry}}সেই রেশ ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য মমতা সরকার জমি দেয় না কেন্দ্রকে। আর পুরো ভারতে একমাত্র একটি সরকারই এরকম কাজ করে। পশ্চিমবঙ্গে যে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তাতে প্রশ্রয় দিচ্ছেন মমতাই। সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাংলায় আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিজেপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন জয়ের দাবি খারিজ মমতার
{{/usCountry}}আর বড়জোড়ার সভা থেকে শাহের সেই আক্রমণের পালটা দিলেন মমতা। সেইসঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে ক্ষমতায় আসবে বলে শাহ যে দাবি করেছেন, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। মমতা দাবি করেন, ২০২১ সালে বিজেপি বলেছিল যে ২০০ পার। সেটার ধারেকাছেও যায়নি। এবার বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতবে বলেছে। কিন্তু আদতে বিজেপি বাংলা ছাড়া হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন মমতা।