উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে শিলিগুড়িতে এসএসবি ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টারের বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই অনুষ্ঠানে প্রথমবার উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একইসঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন অমিত শাহ। তাঁর দাবি, এর আগে মুখ্যমন্ত্রীকে সেনা বা নিরাপত্তাবাহিনীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতেন না।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা দিবস এবং ‘বন্দেমাতরম’ প্রসঙ্গেও বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগেই দেশ ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন করেছে। ২০১৫ সাল থেকে লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখনই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছেন, তিনি সেখানে উপস্থিত থেকেছেন। তবে এবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অমিত শাহের কথায়, এবারের অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রথমবার সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’ গান পরিবেশন করা। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টি শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনকে গতি দেয়নি, স্বাধীন ভারতের ভাবনা ও লক্ষ্যও সামনে তুলে ধরেছিল। একটি সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়েই বঙ্কিমচন্দ্র স্বাধীন ভারত কেমন হওয়া উচিত, তার একটি আদর্শ তুলে ধরেছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর এবং দেশভাগের পরেও ‘বন্দেমাতরম’কে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করা হয়নি। সংসদে গানটি পরিবেশন করা হলেও তা পুরোপুরি গাওয়া হত না। এই বিষয়টি নিয়ে তাঁর মতো বহু মানুষের মনে দীর্ঘদিন ধরে আক্ষেপ ছিল বলেও জানান তিনি।
অমিত শাহ জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’কে সরকারি অনুষ্ঠানের অংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে দেশের যুব প্রজন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টি সম্পর্কে আরও জানতে পারবে।
{{/usCountry}}অমিত শাহ জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’কে সরকারি অনুষ্ঠানের অংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে দেশের যুব প্রজন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই অমর সৃষ্টি সম্পর্কে আরও জানতে পারবে।
{{/usCountry}}শিক্ষাক্ষেত্রেও ‘বন্দেমাতরম’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, স্কুলে যখন শিশুরা সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’ গান গায়, তখন তাদের মধ্যে দেশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে ভাবনার বিকাশ ঘটে। তাঁর মতে, জাতীয়তাবোধ এবং রাষ্ট্রভাবনাকে শক্তিশালী করতে এই গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
উত্তরবঙ্গের নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এসএসবি-র অনুষ্ঠানে অমিত শাহের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদ ও ‘বন্দেমাতরম’কে কেন্দ্র করে তাঁর বক্তব্য—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক, দুই ক্ষেত্রেই এ দিনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।