...
...
Next Story

অঙ্গ-কলিঙ্গের পর চাই বঙ্গ! মহিলা নিরাপত্তা থেকে অনুপ্রবেশ, ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট’ BJPর

বাংলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আরজি কর-কাণ্ড থেকে সন্দেশখালি, কসবা ল’কলেজের ঘটনা-সবই ছুঁয়ে যান অমিত শাহ।

Published on: Mar 28, 2026, 16:57:56 IST
Advertisement

বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ আরও তপ্ত করে তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি করা ৩৫ পাতার ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গে এক সরকার আনার কথা বলেছেন তিনি। অমিত শাহের কথায়, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গ কেবল অরাজকতা, দুর্নীতি আর সিন্ডিকেট রাজের সাক্ষী থেকেছে। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, বর্তমানে বাংলার মানুষের মনে হচ্ছে এর চেয়ে বামপন্থীরাই ভালো ছিল।

‘ভরসার সরকার বাছুন'

১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট’ BJPর (Saikat Paul)
১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে 'চার্জশিট’ BJPর (Saikat Paul)

এদিন অমিত শাহ তৃণমূলের গত দেড় দশকের শাসনকে ১৪টি ক্ষেত্রে ব্যর্থ বলে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, 'গোটা দেশের সুরক্ষা বাংলা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলার মানুষকেই বাছতে হবে, ভয়কে বেছে নিতে হবে নাকি ভরসাকে। গত ১৫ বছর ধরে ভয়, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, বিভেদের রাজনীতি চলছে। বিজেপি ২০১১ সাল থেকেই এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এবার বাংলার মানুষ বিজেপি সরকারই বানাবে।' অমিত শাহ আরও বলেন, 'এই ভোট প্রাণনাশের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, স্বাধীনতা চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, জনবিন‍্যাস পরিবর্তনের ভয় থেকে মুক্তির ভোট, সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট, রোজগার চলে যাওয়ার ভয় থেকে মুক্তির ভোট। একগুচ্ছ ভরসার পক্ষে দাঁড়ানোর ভোট।'

‘ভিক্টিম কার্ড’ ও এসআইআর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভিক্টিম কার্ড’-এর রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই এখানে ভিক্টিম কার্ডের রাজনীতি খেলেন। কখনও পা ভেঙে ফেলেন, কখনও কপালে পট্টি বেঁধে নেন। কখনও অসুস্থ হয়ে পড়েন, কখনও আবার কমিশনের সামনে বেচারা সেজে, কমিশনকে গালি দেন। কিন্তু বাংলার মানুষ এই ভিক্টিম কার্ডের রাজনীতিকে খুব ভালো ভাবে বুঝে গিয়েছে। কমিশনকে গালি দেওয়া বাংলার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।' অন্যদিকে, এসআইআর-এ বাংলার পরিস্থিতি বলতে গিয়ে শাহ বলেন, 'অনেক জায়গায় এসআইআর হচ্ছে, কোথাও কোনও জুডিশিয়াল অফিসারের প্রয়োজন পড়েনি। এই নির্বাচনের আবহেই তামিলনাড়ু, কেরলেও এসআইআর হয়েছে। কোনও কোটকেস হয়নি। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকার, কেরলে কমিউনিস্ট সরকার। বাংলায় এমন কী হল? সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ করতে হল।'

অনুপ্রবেশ

বাংলায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে সওয়াল করতে গিয়ে আরজি কর-কাণ্ড থেকে সন্দেশখালি, কসবা ল’কলেজের ঘটনা-সবই ছুঁয়ে যান অমিত শাহ। তিনি বলেন, 'বাংলায় মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাংলায় মহিলাদের অবস্থা গোটা দেশের মধ্যে সব থেকে খারাপ।' পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, '৩৪ হাজার ৭৩৮ টি মহিলাদের ওপর নির্যাতনের মামলা রয়েছে। তৃণমূলের কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা মহিলাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগের মামলায় প্রকাশ্যেই ‘রক্ষাকবচ’ দেওয়া হয়েছে। আরজি কর মামলায় যে অভিযুক্তদের উকিল, তাদের পুরস্কার স্বরূপ রাজ্যসভা দেওয়া হয়।' এরপরেই শাহ বলেন, ‘মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। কে অপরাধ করছে সেটা দেখা হয় না। আমাদের শাসন আছে, এমন সব রাজ্যেই এটা আমরা করে দেখিয়েছি। মহিলারা যাতে নিজেদের কথা বলতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করবে বিজেপি সরকার।'

বাঙালি হেনস্থা ও কর্মসংস্থান

বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালি হেনস্থা প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যাঁরা ঢোকেন, তাঁরাও বাংলা বলেন। এ রাজ্যের কাউকে চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু আমাদের দৃঢ় সঙ্কল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে দেশ থেকে বার করব।' কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কাটমানি, সিন্ডিকেট, দুর্নীতির কারণে এ রাজ্যে শিল্প অন্ধকারে। তাই এখানে চাকরি নেই। কম রোজগার, কম বেতনের চাকরির কারণও সেই অনুপ্রবেশ।'

বঙ্গ ও কলিঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের দাবি

২০১৪ সালের পর বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির উত্থানের খতিয়ান দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এবার ‘অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গ’ (ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ)-তে একই দলের অর্থাৎ বিজেপির সরকার গঠিত হবে। তাঁর আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, 'আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, বিজেপি বাংলায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। ২০২৬ হবে তৃণমূলকে বিদায় জানানোর বছর।' বাংলায় বিজেপির ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার তথ্য দেন অমিত শাহ। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ছিল লোকসভা নির্বাচনে। আসন ২টি। ২০১৯ সালে বিজেপি ৪১ শতাংশ হয়, ১৮টা আসন পায়। ২০২৪ সালে বিজেপি ৩৯ শতাংশ ভোট পায়, আসন পায় ১২টি। শাহর কথায়, 'এখানে বিজেপি ৪০ শতাংশ ভোট পাওয়ার একটা বেস তৈরি করে রেখেছে।' অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপির ৪০ শতাংশ শেয়ার। বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান নিয়ে শাহ বলেন, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট ছিল, তিনটি আসন পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালে ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। ৭৭টি আসন পেয়েছে বিজেপি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe