সবই লোকদেখানো, বাংলায় ক্ষমতায় আসতেই চায় না বিজেপি... দিদি-মোদী 'সেটিং' রয়েছে! রাজ্যের রাজনৈতিক তর্কবিতর্কে প্রতিবার বাংলার নির্বাচনের আগে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে সিপিএমের তোলা ‘সেটিং-তত্ত্ব’ অভিযোগ। তিনদিনের রাজ্য সফরে এসে, মঙ্গলবারের সাংবাদিক বৈঠকে সেই কানাঘুষোতেই সরাসরি জল ঢাললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নটা উঠতেই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, 'তাহলে আমি এখানে কেন?'
দিদি-মোদী 'সেটিং' প্রশ্ন

বাংলার বুকে একটা প্রশ্ন বারবার উঠেছে, কেন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের এত আর্থিক দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পরও আসল মালিককে গ্রেফতার করা হল না? নিয়োগ দুর্নীতিতে ‘কাকু’ অর্থাৎ সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের গ্রেফতারির পর উঠে এসে এই কোম্পানির নাম। তাতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশিতে বাজেয়াপ্ত হয়েছে কোটি কোটি টাকা, তারপর কেন গ্রেফতারি নয়? সেই প্রশ্ন উঠেছে। অমিত শাহর সামনেও সেই প্রশ্নের উত্থাপন করেন এক সাংবাদিক। প্রিভেশনশন অফ মানি লন্ডারিংয়ের অ্যাক্টের কথা উল্লেখ করে এক সাংবাদিক তুলে আনেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন গ্রেফতার হতে পারে, তাহলে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে ১৫০ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরও তার মালিক কেন এখনও গ্রেফতার হননি? তাহলে কি সেটিং তত্ত্ব? সাংবাদিকের কথায়, সে প্রশ্ন, বিজেপির একেবারে নীচু তলার কর্মী থেকে বাংলার মানুষের মনে জেগেছে? কেন এত কোটির দুর্নীতির পরও লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের মালিককে গ্রেফতারি নয়?
অবস্থান স্পষ্ট করলেন অমিত শাহ
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, 'বিজেপির কোনও নেতা এজেন্সির কাজে নাক গলায় না। এজেন্সি যেটা করার নিশ্চয়ই করবে, কাউকে ভয় পাবে না, কাউকে বাঁচাবে না।' একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে শেষ সারির কর্মী - সবার লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলকে বাংলা থেকে সরাতে হবে। তাঁর কথায়, 'বিজেপির নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী - সকলেই চান শিকড় থেকে তৃণমূলকে বাংলা থেকে উপড়ে ফেলতে।' কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও ব্যাখ্যা, 'নরেন্দ্র মোদীজি নিজে কিছুদিন আগেও বাংলায় এসেছিলেন। জনসভা হয়নি, সেটার আলাদা কারণ আছে। কিন্তু তা নিয়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে চান, ছড়াতে পারেন।' তবে ‘বিজে-মূল সেটিং তত্ত্ব’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই সন্দেহ যেন আরও জোরালো হয়েছে। পাড়ায়-পাড়ায় শোনা যায়, আসল লড়াই ভোটবাক্সে নয়, অন্য কোথাও। দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও যে এমনটা মনে করেন, তা অস্বীকার করেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।
{{/usCountry}}সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অমিত শাহ বলেন, 'বিজেপির কোনও নেতা এজেন্সির কাজে নাক গলায় না। এজেন্সি যেটা করার নিশ্চয়ই করবে, কাউকে ভয় পাবে না, কাউকে বাঁচাবে না।' একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে শেষ সারির কর্মী - সবার লক্ষ্য একটাই, তৃণমূলকে বাংলা থেকে সরাতে হবে। তাঁর কথায়, 'বিজেপির নীচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী - সকলেই চান শিকড় থেকে তৃণমূলকে বাংলা থেকে উপড়ে ফেলতে।' কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আরও ব্যাখ্যা, 'নরেন্দ্র মোদীজি নিজে কিছুদিন আগেও বাংলায় এসেছিলেন। জনসভা হয়নি, সেটার আলাদা কারণ আছে। কিন্তু তা নিয়ে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভ্রান্ত ধারণা ছড়াতে চান, ছড়াতে পারেন।' তবে ‘বিজে-মূল সেটিং তত্ত্ব’ নতুন কিছু নয়। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে এই সন্দেহ যেন আরও জোরালো হয়েছে। পাড়ায়-পাড়ায় শোনা যায়, আসল লড়াই ভোটবাক্সে নয়, অন্য কোথাও। দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের একাংশও যে এমনটা মনে করেন, তা অস্বীকার করেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও।
{{/usCountry}}এদিন বাংলায় এসে অমিত শাহ আবারও দুর্নীতি ও অপশাসন ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দেন। চিটফান্ড থেকে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন, আবাস-একশো দিনের কাজের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলেন অমিত শাহ। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কাড়ি কাড়ি টাকা উদ্ধারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী কী জবাব দিতে পারবেন, আপনারই মন্ত্রীর ঠিকানা থেকে ২৭ কোটি টাকা পাওয়া যায়, যা গুনতে গুনতে নোট গোনার মেশিনও গরম হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।' পার্থ চট্টোপাধ্যায় কেবল নয়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, জীবনকৃষ্ণ-মানিকের গ্রেফতারি নিয়েও সোচ্চার হন মুখ্যমন্ত্রী। অমিত শাহর কথায়, 'এখানে দুর্নীতির জন্য বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। ১৪ বছর ধরে দুর্নীতিই বাংলার পরিচয় হয়ে উঠেছে।' সেই সঙ্গে ছাব্বিশের এপ্রিলের পর বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার দিয়ে গেলেন আমি শাহ।