দেশের নিরাপত্তার দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডর অর্থাৎ চিকেনস নেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিন-বাংলাদেশ যখন একযোগে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তা নিয়ে এগোচ্ছে, তখন এই চিকেনস নেক, ভারতের স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এমন এক পরিস্থিতিতে শনিবার ছিল উত্তরবঙ্গে অমিত শাহের সফর। তিনি ঘুরে দেখেন সীমান্তে জম্মুগছ আউটপোস্ট। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে এক প্রশাসনিক বৈঠকেও বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার যে আউটপোস্ট টি অমিত শাহ ঘুরে দেখেন, উত্তরবঙ্গের সেই জুম্মাগছ গ্রামটি স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে। এই এলাকার মূল উদ্বেগ মহানন্দা নদীকে ঘিরে। এখানের বিস্তীর্ণ এলাকা উন্মুক্ত। বর্ষাকালে নদীপথ ধরে অনায়াসে এইখান দিয়ে অনুপ্রবেশের একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। আর সেই এলাকা পরিদর্শন করেন শাহ। তাঁকে জানানো হয়, এলাকার পরিস্থিতির কথা।
সীমান্তের জুম্মাগছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পৌঁছে যান শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায়। সেই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভুয়া পরিচয় এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হয়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহের পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। উত্তরকন্যার পাশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি। কাঁটাতার লাগোয়া জামুড়িয়া ভিটা, সন্ন্যাসীকাঁটার মতো এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তির কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনতে আধুনিক ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং অর্থাৎ স্মার্ট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও নদীপথে যাতে মাছিও না গলে, তার জন্য নদী এলাকায় স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম বসানোর কথা জানান।