রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিস এবং সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে যখন উত্তাল গোটা রাজ্য, ঠিক সেই সময়েই এক নজিরবিহীন নাটকীয়তা তৈরি হল। সল্টলেক সেক্টর ফাইভের এক বিলাসবহুল হোটেলে তখন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। ঠিক সেই সময় করিডরে আচমকা উদয় হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তথা রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (নিরাপত্তা) সুমিত কুমার।

সল্টলেকে আইপ্যাক-এর দফতর যে বহুতলে, সেখান থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে জেপি নাড্ডাদের বৈঠকস্থল। বৃহস্পতিবার সকালেই সাংগঠনিক কর্মসূচিতে ঝটিকা সফরে কলকাতায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। দুপুরে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ওই হোটেলে নাড্ডাদের বৈঠক চলছিল। সেই বৈঠকস্থলের ঠিক বাইরের করিডরে উর্দিধারী আইপিএস সুমিত কুমারকে দেখামাত্রই বিদ্যুৎবেগে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওই হোটেলেই তখন জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক চলছিল রাজ্য বিজেপির সব হেভিওয়েট নেতা, জেলা সভাপতি এবং সাংগঠনিক বিভাগের আহ্বায়কদের। এমন একটি দিনে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় যুক্ত থাকা পুলিশকর্তাকে ওই হোটেল চত্বরে দেখামাত্রই কৌতূহল দানা বাঁধতে শুরু করে। হোটেলের যে সম্মেলনকক্ষে নাড্ডাদের বৈঠক চলছিল, সেই দিকের করিডরের কাছাকাছি পৌঁছে যান তিনি।আইপিএস কর্তাকে সম্মেলন কক্ষের দিকে এগোতে দেখেই সংবাদমাধ্যম ঘিরে ধরে। তবে ক্যামেরার লেন্স তাঁর দিকে ঘুরতেই হঠাৎ পিছন ফিরে হাঁটা শুরু করেন তিনি।
যে পথে হোটেল চত্বরে প্রবেশ করেছিলেন, সেই পথ দিয়েই আবার বেরিয়ে যান তিনি। কেউ কেউ অনুমান করছেন, সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই হোটেল চত্বর থেকে বেরিয়ে যান সুমিত কুমার। হোটেল চত্বর থেকে বেরিয়ে গাড়ি আসার জন্য অপেক্ষা করছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তা। সেখানেই সাংবাদিকেরা তাঁর কাছে জানতে চান, ওই হোটেলে কেন এসেছেন। সংক্ষিপ্ত জবাবে রহস্য আরও বাড়িয়ে আইপিএস আধিকারিক বলেন, 'একজনকে খুঁজতে এসেছিলাম।' তবে কাকে খুঁজছিলেন, সে উত্তর না দিয়েই গাড়িতে উঠে চলে যান তিনি। আর তাতেই বিজেপি শিবিরে কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। বিজেপির যে নেতারা তখন বৈঠককক্ষের বাইরে ছিলেন, তাঁরাও খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। বিজেপির যে প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীরা বৈঠককক্ষের ভিতরে রয়েছেন, তাঁদের আপ্তসহায়কেরাও চলে আসেন বাইরে। তাঁরাও খোঁজখবর নিতে থাকেন। নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। আইপিএস কর্তার এই আচমকা আগমন এবং প্রস্থানের বিষয়ে খবর যায় জেপি নাড্ডার বৈঠককক্ষের ভিতরেও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রহস্যের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে বহুতল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের নথিপত্র নিয়ে যান, সেখান থেকে জেপি নাড্ডার বৈঠকস্থলের দূরত্ব মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার। ইডি যখন কয়লা পাচার মামলার সূত্রে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রধানের বিজেপির বৈঠকস্থলে হাজিরা কি কেবলই কাকতালীয়?
{{/usCountry}}রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রহস্যের প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যে বহুতল থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইপ্যাকের নথিপত্র নিয়ে যান, সেখান থেকে জেপি নাড্ডার বৈঠকস্থলের দূরত্ব মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার। ইডি যখন কয়লা পাচার মামলার সূত্রে আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রধানের বিজেপির বৈঠকস্থলে হাজিরা কি কেবলই কাকতালীয়?
{{/usCountry}}