Annapurna Yojna Update: রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে শুরু করেছে। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ধাপে ধাপে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত মহিলাদের। তবে এরই মধ্যে সামনে এসেছে একাধিক অভিযোগ। অনেকের আবেদন বাতিল হয়েছে, আবার এমনও অভিযোগ উঠেছে যে, প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করেও কিছু ব্যক্তি সরকারি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।

বৃহস্পতিবার রথযাত্রার দিন কোচবিহারের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ খোলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের বয়স এখনও মাত্র দু'মাস। তাই গোটা প্রক্রিয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। যোগ্য আবেদনকারীদের কোনওভাবেই বঞ্চিত করা হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের বয়স দু’মাস। একটু সময় দিন। যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁরা অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা পাবেন। অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন করতে গিয়ে অনেকেই ভুল করেছেন। কেউ আবার দু'জায়গাতেই ফর্ম জমা দিয়েছেন। এসব যাচাই করা হচ্ছে। যোগ্য মা-বোনেরা অবশ্যই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন।”
তবে একই সঙ্গে কড়া সতর্কবার্তাও দেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন না, অথচ তথ্য গোপন করে আবেদন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘অনেকেই অনলাইনে তথ্য গোপন করেছেন। সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে পড়বেন না, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হবে এবং তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।’
এর আগেও এই বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ বিতরণের আগে এবং পরে আবেদনকারীদের সমস্ত তথ্য গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে। কোনও আবেদনপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি বা নথিতে সমস্যা ধরা পড়লে সেই আবেদন বাতিল করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}এর আগেও এই বিষয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ বিতরণের আগে এবং পরে আবেদনকারীদের সমস্ত তথ্য গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে। কোনও আবেদনপত্রে তথ্যগত অসঙ্গতি বা নথিতে সমস্যা ধরা পড়লে সেই আবেদন বাতিল করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
{{/usCountry}}প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু নথি যাচাই নয়, অনেক জায়গায় সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও তথ্য মিলিয়ে দেখছেন। যাঁদের আবেদন আগে বাতিল হয়েছিল বা যাঁদের নথিতে ত্রুটি ধরা পড়েছিল, তাঁদের তথ্যও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাঁরা একাধিকবার আবেদন করেছেন বা একই ব্যক্তি অনলাইন ও অফলাইনে আলাদা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনার মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা যোগ্য মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো। তাই কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে এই প্রকল্পের সুযোগ না পান এবং কোনও যোগ্য আবেদনকারী যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতেই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
ফলে যাঁদের আবেদন এখনও অনুমোদিত হয়নি বা যাঁদের ফর্ম বাতিল হয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত না হয়ে অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। সরকার জানিয়েছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রকৃত যোগ্যদের অ্যাকাউন্টেই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।