বীরভূমে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত হিংসা, ভাঙচুর এবং ইট লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এল একটি পুরনো অভিযোগ। স্থানীয় ইট ব্যবসায়ী শুভেন্দু মণ্ডল সম্প্রতি তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মামুন শেখ-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ার পর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে তিনি আবারও আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

শুভেন্দু মণ্ডলের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে এবং মামুন শেখের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর ইটভাটায় চড়াও হয়। ওই হামলার সময় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ইট লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীর বক্তব্য, ঘটনার পরপরই তিনি অনুব্রত মণ্ডল, মামুন শেখ-সহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে তাঁর দাবি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগটি অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে ছিল।
অভিযোগকারী আরও জানিয়েছেন, হামলার ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছ থেকে তোলা দাবি করা হতো। তিনি সেই দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করায় এবং রাজনৈতিকভাবে বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকায় বিভিন্ন সময়ে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেও একাধিকবার চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
সম্প্রতি তিনি ফের পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর আশা, এবার অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল, মামুন শেখ বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}সম্প্রতি তিনি ফের পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়ে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর আশা, এবার অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল, মামুন শেখ বা তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট নয়।
{{/usCountry}}ঘটনাটি সামনে আসার পর বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, পুরনো মামলার অগ্রগতি এবং নতুন করে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত কতদূর এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে এই বহুচর্চিত অভিযোগের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।