সিউড়িতে নিজের দলের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে তাঁর সামনেই হঠাৎ লাঠি এবং মোটা গাছের ডাল হাতে ঢুকে পড়লেন তিন যুবক। শুরু হল তুমুল ভাঙচুর। টেবিল, চেয়ার, কাচের জানলা থেকে এসি, একের পর এক জিনিসে আঘাত করা হল। এমনকি অনুব্রতের সামনে থাকা কাচের টেবিলও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে বুধবার সন্ধ্যায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় সিউড়িতে। তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় সিউড়ি ছাড়েন অনুব্রত।

ভোটের ফল প্রকাশের পর বুধবার প্রথম বার সিউড়িতে গিয়েছিলেন অনুব্রত। সিউড়ি পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে দলের কার্যালয়ে বসে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। মূলত ভোটের ফল এবং দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার কথা ছিল। সেই সময় আচমকাই তিন যুবক হাতে লাঠি এবং কাঠের ডাল নিয়ে কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়েন বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে টেবিল এবং চেয়ার ভাঙা শুরু হয়। পরে কাচের জানলা এবং এসিতেও আঘাত করা হয়। অনুব্রতের সামনেই একটি কাচের টেবিল ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশ করা ভিডিয়োতে ভাঙচুর এবং অনুব্রতকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ছবি দেখা গিয়েছে।
অভিযোগ, যুবকেরা অনুব্রতকে উদ্দেশ করে হুমকিও দেন। ফের সিউড়িতে এলে তাঁকে দেখে নেওয়া হবে বলে তাঁরা শাসানি দেন বলে দাবি। একটি সূত্রের খবর, ভাঙা কাচের টুকরোয় অনুব্রত সামান্য আহতও হন। তবে পুরো ঘটনায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে।
তবে কেন এই হামলা? আটক যুবকদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা তৃণমূলের শাসনে নানা ভাবে অত্যাচারিত এবং শোষিত হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। যদিও পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন অনুব্রতপন্থীরা। এই দাবিরও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
{{/usCountry}}তবে কেন এই হামলা? আটক যুবকদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা তৃণমূলের শাসনে নানা ভাবে অত্যাচারিত এবং শোষিত হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। যদিও পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় জয় শ্রীরাম স্লোগান শোনা গিয়েছিল বলে দাবি করেছেন অনুব্রতপন্থীরা। এই দাবিরও স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
{{/usCountry}}ঘটনার পরেই এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। অনুব্রত নিজেও নিরাপত্তা চান বলে জানা যায়। এরপর পুলিশ ভ্যান তাঁকে এসকর্ট করে সিউড়ি থেকে বোলপুরের দিকে নিয়ে যায়। গোটা ঘটনায় তিন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। কী কারণে তাঁরা দলীয় কার্যালয়ে ঢুকলেন, আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, এবং তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক সময়ে বীরভূমে তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন অনুব্রত। তাঁর উপস্থিতিতেই দলের কার্যালয়ে এ দিনের এমন ঘটনা ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটের ফলের পর দলীয় সংগঠন নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, তখন দলেরই কার্যালয়ে প্রকাশ্য ভাঙচুর সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিল। এখন পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে, এই হামলার নেপথ্যে শুধুই স্থানীয় ক্ষোভ ছিল, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণও রয়েছে।