...
...
Next Story

West Bengal APAAR ID Latest Details: পশ্চিমবঙ্গে শুরু ‘এক পড়ুয়া, এক পরিচয়’, তৈরি হচ্ছে ১২ সংখ্যার আপার আইডি

শিক্ষা দপ্তরের লক্ষ্য, একজন পড়ুয়ার প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাগত তথ্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা। অর্থাৎ একজন পড়ুয়া স্কুলজীবন থেকে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছনোর পরও তাঁর শিক্ষার যাবতীয় নথি একই পরিচয়ের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে।

Published on: Sep 7, 2026, 08:43:56 IST
Advertisement

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়’ ভাবনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ সংখ্যার অনন্য ‘আপার আইডি’ তৈরির প্রক্রিয়া। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলে এই কাজ শুরু হয়েছে। নদিয়া জেলার তেহট্ট ১ ও ২ চক্রের স্কুলগুলিতেও ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়’ ভাবনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ সংখ্যার অনন্য ‘আপার আইডি’ তৈরির প্রক্রিয়া।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘এক দেশ, এক পড়ুয়া পরিচয়’ ভাবনার অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ সংখ্যার অনন্য ‘আপার আইডি’ তৈরির প্রক্রিয়া।

শিক্ষা দপ্তরের লক্ষ্য, একজন পড়ুয়ার প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাগত তথ্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা। অর্থাৎ একজন পড়ুয়া স্কুলজীবন থেকে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছনোর পরও তাঁর শিক্ষার যাবতীয় নথি একই পরিচয়ের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে।

আধার কার্ডের মতোই এই পরিচয় হবে স্থায়ী। এর সঙ্গে পড়ুয়ার বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, নম্বরপত্র, শংসাপত্র এবং ডিগ্রির তথ্য যুক্ত করা যাবে। ফলে ভবিষ্যতে কোনও পড়ুয়ার শিক্ষাগত নথি খুঁজতে আলাদা আলাদা জায়গায় তথ্য খোঁজার প্রয়োজন কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই পরিচয় তৈরির জন্য স্কুলগুলিকে ইউডাইএসই প্লাস পোর্টালের ‘স্টুডেন্ট মডিউল’-এ যেতে হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই করার পর আপার আইডি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এতদিন পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের বিভিন্ন তথ্য ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে সংরক্ষণ করা হত। এবার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সেই তথ্যের ভিত্তিতে নতুন পরিচয় তৈরি করতে বলা হয়েছে।

তবে এত বিপুল পরিমাণ তথ্য যাচাই, সংশোধন এবং পোর্টালে আপলোড করার কাজ সহজ নয় বলেই মনে করছেন শিক্ষকরা। প্রতিটি পড়ুয়ার তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে দেখা, প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করা এবং ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে যথেষ্ট সময় লাগতে পারে। ফলে নিয়মিত পঠনপাঠনের পাশাপাশি শিক্ষকদের উপর বাড়তি কাজের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বেতাই পরিমল বাগচি স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বুদ্ধদেব ঘোষ এবং স্থানীয় এক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, কাজটি সময়সাপেক্ষ হলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখলে এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী উদ্যোগ। তাঁদের মতে, একজন পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের সমস্ত তথ্য এক জায়গায় থাকার ফলে ভবিষ্যতে অনেক কাজ সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে, অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য সংরক্ষণ এবং পড়ুয়াদের পরিচয় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

তবে শিক্ষক মহলের একাংশের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে যারা উঁচু শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে, তাদের আগের শ্রেণির সমস্ত তথ্য নতুন পরিচয়ের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে না বলেই জানা যাচ্ছে। ফলে পুরনো তথ্য একসঙ্গে যুক্ত করতে স্কুলগুলিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ‘আপার আইডি’ ব্যবস্থা চালু হলে একজন পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ নথি একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, নির্ভুল এবং দীর্ঘমেয়াদি করা। তবে এই প্রকল্প কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, এখন সেটাই দেখার।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe