Arms Smuggling in Howrah: অস্ত্র পাচার রুখতে বড় সাফল্য পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নীল-সাদা ট্যাক্সি থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ট্যাক্সির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই অস্ত্র কোথা থেকে আনা হচ্ছিল এবং কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম রাজেশ কানওয়ার। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বরানগর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ট্যাক্সিচালক। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশের STF হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানার পুলিশের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন নিশ্চিন্দা থানার এলাকায় একটি নীল-সাদা ট্যাক্সিকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির ভিতর থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলির মধ্যে কয়েকটি ৯ এমএম পিস্তল এবং কয়েকটি সেমি-ফিনিশড (অসম্পূর্ণভাবে তৈরি) রিভলভার রয়েছে। অস্ত্রগুলি কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অস্ত্র উদ্ধারের পরই রাজেশ কানওয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, তিনি কোনও বড় অস্ত্র পাচার চক্রের সদস্য কি না, এই অস্ত্রের আসল মালিক কে এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার পিছনে একটি সংগঠিত অস্ত্র পাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। তাই শুধু ধৃতের ভূমিকা নয়, গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানেই তদন্ত এগোচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনার পিছনে একটি সংগঠিত অস্ত্র পাচার চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। তাই শুধু ধৃতের ভূমিকা নয়, গোটা নেটওয়ার্কের সন্ধানেই তদন্ত এগোচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই উত্তর ২৪ পরগনায় বড় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল। গত বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিআইডি এবং অশোকনগর থানার যৌথ অভিযানে ৮ নম্বর মোড় এলাকায় এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি ম্যাজিক গাড়িতে করে নৈহাটি রোড ধরে অশোকনগরের দিকে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।
তল্লাশি চালিয়ে ওই মহিলার ব্যাগ থেকে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তার মধ্যে ছিল চারটি ৭ এমএম পিস্তল এবং দুটি ৯ এমএম পিস্তল। এছাড়াও উদ্ধার হয় ১২টি ম্যাগাজিন, প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১২ হাজার টাকা নগদ এবং দুটি মোবাইল ফোন। সেই ঘটনাতেও তদন্তকারীরা অস্ত্র পাচারের বড় চক্রের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন।
পরপর দুই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে এক ক্ষেত্রে একজন মহিলা এবং অন্য ক্ষেত্রে একজন ট্যাক্সিচালকের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তদন্তকারীরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের আড়ালে লুকিয়ে অস্ত্র পাচারের নতুন কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের STF জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হতে পারে। অস্ত্র পাচার চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে তদন্ত জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।