Indian Army Jawan arrested: সেনা ছাউনি থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর কাছে সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ানকে গ্রেফতার করল পাঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল। ধৃতের নাম রাজবীর সিং। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেনা ছাউনির ভিতর থেকে জওয়ানের গ্রেফতারির ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজবীর সিংকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের অনুমতি নিয়ে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে পাঞ্জাবে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর তাঁকে ফাজিলকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করাতে হবে। তার পরেই ধৃতকে নিয়ে পাঞ্জাবের উদ্দেশে রওনা দেয় তদন্তকারী দল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজবীর পাঞ্জাবের তরনতারন জেলার রসুলপুরের বাসিন্দা। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৫ জ্যাক রাইফেলসে কর্মরত ছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সেনা ছাউনি এবং সামরিক পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে পাকিস্তানের আইএসআই ও পাক সেনাবাহিনীর কাছে পাঠাতেন তিনি।
গত ৮ অক্টোবর ফাজিলকার স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেলে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে গুরমুর সিধু, রাজবীর সিং ও দিলপ্রীত সিংয়ের নাম উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, মহিলা সহযোগী গুরমুর সিধুর মাধ্যমে সামরিক তথ্য পাকিস্তানে পাঠানো হত। মামলায় অভিযোগ, বাহিনীতে কর্মরত দুই জওয়ান সেনা ছাউনি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য আইএসআই-এর কাছে পৌঁছে দিতেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেই কাজ করতেন। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় তদন্ত। তার পর থেকেই ফেরার ছিলেন রাজবীর, এমনটাই জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সৌমিত্র সিং সরকার। শেষ পর্যন্ত হাসিমারা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় রাজবীরের পাশাপাশি দিলপ্রীত সিংয়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড়সড় গুপ্তচর নেটওয়ার্ক কাজ করছে কিনা, সেনাবাহিনীর আরও কোনও গোপন তথ্য পাচার করা হয়েছে কিনা এবং এই কাজে অন্য কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পাঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল। তবে তদন্তের স্বার্থে এই নিয়ে বিশদে কিছু প্রকাশ করেননি তদন্তকারীরা।