যুবভারতীতে ‘মেসি ইভেন্ট’ বিতর্কে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। প্রয়োজনে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।

হাই কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে শতদ্রু লেখেন, 'সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছি, বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আছে।' তাঁর দাবি, আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। উল্লেখ্য, মেসি-কাণ্ডে ইতিমধ্যেই দু’বার অরূপ বিশ্বাসকে তলব করেছে পুলিশ। তবে তিনি দু’বারই হাজিরা এড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারি থেকে সুরক্ষা চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন তিনি। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে আদালত তাঁকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও একাধিক শর্ত আরোপ করেছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি ছাড়া রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না অরূপ বিশ্বাস। পাশাপাশি তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। শুনানির সময় মেসির এত ঘনিষ্ঠভাবে অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়েও প্রাক্তন মন্ত্রীকে ভর্ৎসনা করেছে আদালত বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, এই মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। পরে তিনি জামিন পান। আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে শতদ্রু বলেন, তাঁর জামিনের আবেদন পাঁচবার খারিজ হয়েছিল এই যুক্তিতে যে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অরূপ বিশ্বাস আরও বেশি প্রভাবশালী হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হল? এছাড়াও, পুলিশি তলব এড়ানোর বিষয়টি নিয়েও অরূপ বিশ্বাসকে কটাক্ষ করেছেন শতদ্রু। এখন নজর ডিভিশন বেঞ্চের শুনানির দিকে। সেখানে কী সিদ্ধান্ত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী আইনি লড়াই।
এদিকে মেসিকাণ্ডে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পেলেও উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতে হবে অরূপকে। তদন্ত চলবে নিজের গতিতে। এরই সঙ্গে আজ হাইকোর্টে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মেসিকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে গোটা দেশের কাছে। অরূপকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করলেন, মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু যে তাঁকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন? এই ঘটনায় অব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এদিকে অরূপ আপাতত রক্ষাকবচ পেলেও আদালত জানিয়ে দিল, নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপকে।
{{/usCountry}}এদিকে মেসিকাণ্ডে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পেলেও উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতে হবে অরূপকে। তদন্ত চলবে নিজের গতিতে। এরই সঙ্গে আজ হাইকোর্টে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মেসিকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে গোটা দেশের কাছে। অরূপকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করলেন, মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু যে তাঁকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন? এই ঘটনায় অব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এদিকে অরূপ আপাতত রক্ষাকবচ পেলেও আদালত জানিয়ে দিল, নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপকে।
{{/usCountry}}ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মে। মেসির ‘গোট টুর’ অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর ধারার উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ৪ জুন অরূপকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে তার আগেই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চান। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার কোনও মেডিক্যাল নথি বা রিপোর্ট জমা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ফলে তাঁকে ৮ জুন সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আবহে ৭ তারিখ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দু’টি নোটিসও সাঁটিয়ে আসে পুলিশ। তবে অরূপ হাজিরা দেননি। বরং তিনি আপাতত 'নিখোঁজ'।