হাইকোর্টে একাধারে স্বস্তি পেলেন ও ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মেসিকাণ্ডে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পেলেও উচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশের নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দিতে হবে অরূপকে। তদন্ত চলবে নিজের গতিতে। এরই সঙ্গে আজ হাইকোর্টে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মেসিকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে গোটা দেশের কাছে। অরূপকে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করলেন, মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু যে তাঁকে এভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন? এই ঘটনায় অব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি। এদিকে অরূপ আপাতত রক্ষাকবচ পেলেও আদালত জানিয়ে দিল, নিম্ন আদালতে পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে অরূপকে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মে। মেসির ‘গোট টুর’ অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর ধারার উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ৪ জুন অরূপকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে তার আগেই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চান। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার কোনও মেডিক্যাল নথি বা রিপোর্ট জমা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ফলে তাঁকে ৮ জুন সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আবহে ৭ তারিখ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দু’টি নোটিসও সাঁটিয়ে আসে পুলিশ। তবে অরূপ হাজিরা দেননি। বরং তিনি আপাতত 'নিখোঁজ'।
এর আগে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানে প্রাথমিক ভাবে স্বস্তি মেলেনি। এদিকে গত ৮ জুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তিনি থানায় সশরীরে হাজির হননি। এমনকি আইনজীবীর মারফতও পুলিশের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছয়নি বলে জানা যায়। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, তদন্তে বারবার অনুপস্থিত থাকার পর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা, এমনকি গ্রেপ্তারির সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়।