মেসি-কাণ্ডে আরও চাপে পড়লেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার মামলাটি দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই ধরনের মামলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না, নিয়ম মেনেই শুনানি হবে। পাশাপাশি অরূপকে আদালতের পরামর্শ, গ্রেপ্তারির আশঙ্কা থাকলে আগাম জামিনের আবেদন করুন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ মে। মেসির ‘গোট টুর’ অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। অভিযোগে টিকিট কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় গাফিলতির মতো একাধিক গুরুতর ধারার উল্লেখ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গত ৪ জুন অরূপকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে তার আগেই তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় চান। পুলিশের দাবি, অসুস্থতার কোনও মেডিক্যাল নথি বা রিপোর্ট জমা দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ফলে তাঁকে সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নতুন নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে দু’টি নোটিসও সাঁটিয়ে আসে পুলিশ।
এর আগে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পর তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানেও স্বস্তি মেলেনি। এদিকে সোমবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তিনি থানায় সশরীরে হাজির হননি। এমনকি আইনজীবীর মারফতও পুলিশের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে, তদন্তে বারবার অনুপস্থিত থাকার পর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আরও কড়া ব্যবস্থা, এমনকি গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।