অবশেষে আবহবিদদের পূর্বাভাস মেনেই মঙ্গলবার ভোররাতে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছেছিল ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে প্রবল ঝড়বৃষ্টি। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড়ের কতটা প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গে? আপাতত বাংলার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আবহবিদদের মতে, মুরাসুর সরাসরি কোনও বড় প্রভাব রাজ্যে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আকাশ মেঘলা। বাতাসে রয়েছে গুমোট ভাব। নভেম্বরের শুরুতে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন কিছুটা ব্যতিক্রমী।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত ১টা নাগাদ মুরাসুর ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ঘূর্ণিঝড়ের বহির্ভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করে। ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের চোখ বা কেন্দ্র উপকূলের দিকে এগিয়ে আসে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছ দিয়ে ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। সেই সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও তা ১২০ কিলোমিটারেও পৌঁছয়। স্থলভাগে প্রবেশের পর থেকেই ক্রমশ শক্তি হারাতে শুরু করেছে মুরাসু।
বাংলায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই
মুরাসুর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের দক্ষিণ অংশে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে গিয়েছে গাছ। তামিলনাড়ুর উত্তর অংশেও ঝড়বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তেমন কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে কয়েকটি জেলায় স্থানীয় ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
মেঘলা আকাশ, গুমোট আবহাওয়া কলকাতায়
{{/usCountry}}মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
মেঘলা আকাশ, গুমোট আবহাওয়া কলকাতায়
{{/usCountry}}মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং আশপাশের এলাকায় আকাশের মুখ ভার। রোদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গুমোট ভাব অনুভূত হচ্ছে। তবে মুরাসুর প্রভাবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ৪ নভেম্বর থেকে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে পারে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও কমবে।
সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে কী নির্দেশ?
মুরাসুর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও সতর্ক নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। ৩ নভেম্বরের উপকূলীয় আবহাওয়া বুলেটিনে কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত নম্বর ২ এবং সাগর দ্বীপে দ্বিতীয় পর্যায়ের বিভাগীয় সংকেত জারি রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে সমুদ্রের অবস্থা আপাতত স্বাভাবিক থেকে সামান্য উত্তাল থাকবে। জলোচ্ছ্বাসের কোনও সতর্কতা নেই। রাজ্যের উপকূলে মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা করে সমুদ্রে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়নি বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে মুরাসু নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে উদ্বেগ থাকলেও বাংলার ক্ষেত্রে বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। আপাতত কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং কলকাতায় মেঘলা আকাশই আবহাওয়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন আবহবিদেরা।