বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মাঝেমধ্যে দু'একটা কোনও পদক্ষেপ করে বাস্তবে কোনও লাভ হয় না। সেই বিষয়টি নিয়ে ক্লিন এয়ার ডায়ালগের অনুষ্ঠানে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ভিফে ম্যাকনিল বলেন, ‘বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে নয়, একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখতে হবে। নিবিড় বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রণয়ন করা নীতি এবং জনগণের সক্রিয় ও ফলপ্রসূ অংশগ্রহণই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকরী সমাধান এনে দিতে পারে।’

একইসুরে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান কল্যাণ রুদ্র বলেন, ‘বায়ুর গুণমান উন্নত করতে হলে সরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিক- সব পক্ষের ধারাবাহিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ ধরনের আলোচনা জ্ঞান ও কার্যক্রমের মধ্যে সাযুজ্য তৈরি করতে সাহায্য করে।’
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ভারতে রোগ এবং অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বায়ুদূষণ। যে কারণে প্রতি বছর আনুমানিক ১৬-১৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়। একাধিক ভারতীয় শহরে সূক্ষ্ম বস্তুকণার (PM2.5) গড় মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রস্তাবিত বার্ষিক সীমার প্রায় ১০ গুণ বেশি। বিশেষ করে শীতকালে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ, খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দূষণের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন বসবাসের ফলে শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, হৃদরোগ, শিশুদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। শহরভিত্তিক বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলেও সেগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতার অভাব রয়েছে।
সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ‘ইন্ডিয়া ফর ক্লিন এয়ার’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। যা বায়ুদূষণ মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলিকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, পরবর্তী পর্যায়ে একাধিক শহরে কমিউনিটি ও ক্যাম্পাস-ভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় সমাধান তৈরিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
{{/usCountry}}সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ‘ইন্ডিয়া ফর ক্লিন এয়ার’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়। যা বায়ুদূষণ মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী, যুবসমাজ এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলিকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, পরবর্তী পর্যায়ে একাধিক শহরে কমিউনিটি ও ক্যাম্পাস-ভিত্তিক পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি তরুণদের সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য সংগ্রহ এবং স্থানীয় সমাধান তৈরিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।
{{/usCountry}}