...
...
Next Story

Bikash Ranjan Bhattacharya: বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা! রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের, তীব্র প্রতিবাদ মমতার

Bikash Ranjan Bhattacharya: এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আর্জি, ‘আমরা যাঁরা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করছি, তাঁরা ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছি। সিজ ওয়ার্ক করতে চাই।’

Published on: Oct 8, 2026, 20:36:02 IST
Advertisement

Bikash Ranjan Bhattacharya: রাজ্যজুড়ে আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও আইনি ব্যবস্থার ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব যাদবপুরে (পূর্বালোক) অবস্থিত সিপিআইএম নেতা তথা প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের (Bikash Ranjan Bhattacharya) বাসভবনে অতর্কিতে হামলা চালায় এক দুষ্কৃতী। এবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় কলকাতায় হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন আইনজীবীদের একাংশ। আদালতের কাছে এই বিষয়ে পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। উচ্চ আদালতের নির্দেশ দিয়েছে, আইনজীবীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, শুক্রবার তা রাজ্যকে জানাতে হবে।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা! (সৌজন্যে এক্স )
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলা! (সৌজন্যে এক্স )

এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আর্জি, ‘আমরা যাঁরা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করছি, তাঁরা ভয়ঙ্কর অবস্থায় আছি। সিজ ওয়ার্ক করতে চাই।’ প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা সিজ ওয়ার্ক করলে আমি শেষ পর্যন্ত বাধা দেবো। আমরা সারাজীবন আইনজীবী, আজও নিজেকে তাই মনে করি।’ প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘বিশ্বাস রাখুন।’ প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের আদালতের উপর বিশ্বাস রাখতে বলেন। কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় এজলাসে বলেন, 'এটা আইনজীবীদের কোনও সমস্যা নয়। বাইরে থেকে গুন্ডারা আক্রমণ করছে। পুলিশ কী করছে? গোয়েন্দারা কী করছে? বাড়ির লোকেরা আতঙ্কিত।'

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, 'পুলিশ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে। এর আগের আমলে তো বিচারপতির বাড়ির সামনে স্লোগান দেওয়া হয়েছে।' কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, 'শামিম আহমেদ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চারটি গাড়ির উপর হামলা হয়েছে। এফআইআর হয়েছে। তার পর কী হল? বারুইপুরের ঘটনাতেও কেউ গ্রেফতার হয়নি। রাজ্যের সংস্কৃতি এর আগে এমন ছিল। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত।'

তীব্র প্রতিবাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

তিনি আরও বলেন, 'এটা সত্য যে, গত ১৫ বছরে বিকাশ দা এবং আমরা প্রায়শই মতাদর্শগত ও আইনি অবস্থানের দিক থেকে ভিন্ন মেরুতে থেকেছি। তা সত্ত্বেও, শালীনতার সীমা কখনও লঙ্ঘিত হয়নি। সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে—সংসদ থেকে বিধানসভা, স্থানীয় সংস্থা কিংবা আদালত—সর্বত্রই ভিন্নমত বা প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমার সংহতি প্রকাশের ভাষা হয়তো ফুরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করার বিষয়ে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সংবিধান, বার (Bar), বেঞ্চ (Bench), রাজ্য এবং সর্বোপরি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি—আমাদের ভারতকে—রক্ষা করতেই হবে। পশ্চিমবঙ্গের এই ‘আইনহীন’ পরিস্থিতি—তা এখন এক ‘রাষ্ট্র-পোষিত নৈরাজ্যে’ পরিণত হয়েছে; যেখানে আদালতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ বা ‘অফিসার অফ দ্য কোর্ট’ হিসেবে পরিচিত আইনজীবীরা রাজ্যজুড়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। এর একমাত্র প্রতিকার হলো সম্মিলিত প্রতিরোধ।’

ঠিক কী ঘটেছিল?

প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সিপিএম (CPM) সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার বাসভবনে গভীর রাতে বা ভোরের দিকে এক অপ্রত্যাশিত হামলার (Attack) ঘটনা ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর পাঁচটা নাগাদ ওই এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে যে, এক দুষ্কৃতী স্কুটারে চেপে এসে সরাসরি তাঁর বাড়ির জানলার কাচ লক্ষ্য করে বোতল ছুড়তে শুরু করে। অভিযোগ, হামলা চলাকালীন দুষ্কৃতীরা প্রবীণ এই বাম নেতার উদ্দেশ্যে তীব্র ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এমনকী ‘আমাদের সঙ্গে লাগবি না’ বলে সরাসরি হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। আকস্মিক এই তাণ্ডবের জেরে আইনজীবী নেতার বাড়ির গৃহসহায়িকা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার দৃশ্য বাসভবনের সিসি ক্যামেরা ধরা পড়েছে। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks