দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া উচিত কি না, এই প্রশ্নকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এরই মাঝে স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। ভবানীপুর থানার সামনে তাঁর ছবি ও কুশপুতুল পোড়ানোর অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়ার কথা বিধানসভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

দুর্গাপুজোর আগে বাংলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাগেশ্বর বাবা দুর্গাপুজোর সময় আমিষ খাওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, পুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ‘পাখণ্ডী’, অর্থাৎ ভেকধারী বা ভণ্ড। দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার বর্জনের পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বাংলার খাদ্যাভ্যাস ও বাঙালি সংস্কৃতিকে ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের প্রতিবাদে সরব হন আমিষভোজী বাঙালি-হিন্দুদের একাংশ। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভের খবর সামনে আসে। ভবানীপুর থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ ওঠে, থানার সামনে তাঁর ছবি ও কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে এবার প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একজন ধর্মগুরু নিজের মত করে কথা বলেছেন। কেউ তাঁর কথা গ্রহণ করবেন কি না, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি কারও উপর নিজের মত চাপিয়ে দেননি বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর ছবি পোড়ানোর ঘটনা নিয়ে তিনি আপত্তি জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভবানীপুর থানার সামনে যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গেই বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, তোষণের রাজনীতি করতে করতেই শাসকদলের এই অবস্থা হয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, বিজেপির শক্তি এখন ২০৭-এ পৌঁছেছে এবং উপনির্বাচনের পর সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। রেজিনগরেও জোরদার লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
{{/usCountry}}এই প্রসঙ্গেই বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, তোষণের রাজনীতি করতে করতেই শাসকদলের এই অবস্থা হয়েছে। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, বিজেপির শক্তি এখন ২০৭-এ পৌঁছেছে এবং উপনির্বাচনের পর সেই সংখ্যা আরও বাড়বে। রেজিনগরেও জোরদার লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, বাগেশ্বর বাবার বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে বিজেপির একাংশ। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাইরে থেকে আসা কোনও সাধু-সন্ন্যাসীর পরামর্শে বাংলার সংস্কৃতি বা খাদ্যাভ্যাস বদলে যাবে না। আমিষ খাওয়া নিয়ে একই সুরে কথা বলেছেন বিজেপির আরও কয়েকজন নেতা।
ফলে একদিকে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ধর্মগুরুর ছবি পোড়ানোর ঘটনা—দুই ইস্যু মিলিয়ে দুর্গাপুজোর আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজেদের। তবে ধর্মগুরুকে অপমান বা তাঁর ছবি পোড়ানোর মতো ঘটনা যে প্রশাসন মেনে নেবে না, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।