চিকেনস নেক এলাকায় ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর নজরদারি আরও কড়া হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। এরই সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সাধারণ সিসিটিভি ছাড়াও থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা বসিয়ে সীমান্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে। এমনকী ড্রোনেও নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। সীমান্তে ভারতীয় অংশের চেকপোস্টে বসানো হয়েছে বায়োমেট্রিক লকও। বিএসএফ, এসএসবির পাশাপাশি চিকেনস নেক এলাকার নিরাপত্তায় নজর রয়েছে সেনার। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা পাচারকারীদের ঠেকাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএসএফ। উল্লেখ্য, 'সীমান্ত হত্যা' নিয়ে বাংলাদেশের অনেক অভিযোগ। এদিকে অনেক জায়গাতেই অভিযোগ উঠেছে, টাকা নিয়ে পাচারকারীদের ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে বিজিবি। এর মাঝে বাংলাদেশে কট্টরপন্থা বৃদ্ধিতে ভারতের চিন্তা বেড়েছে।

উত্তরবঙ্গে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, দুই দিনাজপুর এবং মালদহ মিলিয়ে ছয় জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে ১৯৫ কিলোমিটার সীমান্তে নদী, জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। সেই সব এলাকায় বিশেষ করে বিএসএফের টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সঙ্গে সব মিলিয়ে ৪০৯৬.৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে ভারতের। এর মধ্যে থেকে ৩ হাজার ২৩৯.৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার আছে। অর্থাৎ, মোট সীমান্তের ৭৯.০৮ শতাংশ এলাকায় আছে কাঁটাতার বেড়া। এদিকে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের প্রাক্তন সেনা কর্তা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারা ভারত ভাগের ডাক দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা, বিএসএফ চুপিসারে দৃঢ় পদক্ষেপ করে চলেছে।
এই আবহে বাংলাদেশকে ঘিরে ধরে ভারত ইতিমধ্যেই একাধিক সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে। এর মধ্যে তিনটি হবে চিকেনস নেক এলাকার ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিষাণগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায়, একটি হবে উত্তরপূর্বের মিজোরামে। আর এরই মাঝে হলিদাতেও নৌঘাঁটি তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ১০০ জনের মত নৌসেনা আধিকারিক এই ঘাঁটি সামলাবেন। সেখানে ১০০ টন ওজনের ছোট রণতরী মোতয়েন থাকবে। এছাড়াও উত্তরবঙ্গের হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন রাখা হয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমান, বিভিন্ন মিগ ভ্যারিয়েন্ট ও ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র।