বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সকালেই জানান, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আদালতে পেশ করার দরকার নেই, সোজা সীমান্তে বিএসএফ-র হাতে তুলে দিতে হবে। এই নিয়ে এদিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী দেন কড়া বার্তা। এরপর বেলা গড়াতেই বাংলাদেশের তরফে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মুখ খোলেন। তিনি ভারত থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যু নিয়েও ঢাকার অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন,' পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে বলে দেওয়া হয়েছে, সিএএ-র (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন) আওতায় পড়েন না এমন বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাঁকে কোর্টে পাঠাবেন না। তাঁকে ভালো করে খাওয়াদাওয়া করিয়ে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে, নয়তো বসিরহাটে বিওপি-র (সীমান্ত চৌকি) কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।' এদিকে, এরপর বাংলাদেশে এক প্রেস ব্রিফিংএর সময় তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রী তথা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ ভারতের সিএএ বা অসমের এনআরসি তাদের নাগরিকদের জন্য নিজস্ব আইন-কানুন। সেখানে আমাদের কোনও বক্তব্য থাকার অবকাশ নেই। তবে বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, যেন কোনও প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ ইন) না ঘটে।’
এছাড়াও এদিন শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ নিয়েও বক্তব্য রাখেন সালাহউদ্দিন। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট বাংলাদেশে জনতা গণ অভ্যুত্থানের জেরে সেদেশ ছেড়ে ভারতে রাতারাতি আশ্রয় নেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ইউনুস আমলে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় অভিযোগ দায়ের ও কোর্ট দ্বারা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতকে বহুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা। এই বিষয়টি নিয়ে এদিন তারেক রহমানের সরকারের তরফে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন,'আমরা তো তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে ফেরত চাই। বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে এবং বিদ্যমান এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়েছে, যেন তিনি বাংলাদেশে মামলার মুখোমুখি হন।'