দেশে অবৈধ বাংলাদেশিদের ঘিরে ধরপাকড় বহুদিন ধরেই চলেছে। এবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির বাংলাবান্ধা সীমান্তে এক বাংলাদেশি দম্পতি ও তাঁদের নাবালিকা কন্যা এসে পৌঁছতেই দম্পতির অবৈধ কর্মকাণ্ডের কীর্তি ফাঁস হয়। তাঁদের নথি দেখেই অভিবাসন দফতরের সন্দেহ হতেই দীর্ঘ জেরা চলে। আর জেরার পরই আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশ জানাচ্ছে, বাংলাদেশের মঠেরগঞ্জ এলাকা থেকে আজম আলি আসেন। তিনি ভারতে আসেন মূলত চিকিৎসার জন্য। আজম আলি যখন ভারতে আসেন, তখন সাল ২০১৬। এরপর গঙ্গা পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জলরাশি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ দেখেছে অভ্যুত্থানের অগ্নিগর্ভ সময়কাল। এদিকে, ২০১৬ সালে ভারতে আসা আজম আলির পরিবার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভারতে থেকে যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, এরপর তারা বেঙ্গালুরুতে জাল নথি বানিয়ে নিয়ে ভারতে থেকে যায়। সেই নথির ভিত্তিতে বেঙ্গালুরু একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চাকরি করতে শুরু করেন আজম আলি। আজম আলি পরিবার নিয়েও বাস করতে শুরু করেন বেঙ্গালুরুতে।
এরপর, সদ্য আজম আলি ও তাঁর পরিবার ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ যেতে চান। সীমান্তে পৌঁছতেই অভিবাসন দফতরের কাছে তাঁরা ওই পাসপোর্ট জমা দেন। নথি দেখে সন্দেহ হয় অভিবাসন দফতরের অফিসারদের। এরপর চলে জেরা। জেরার মুখেই সমস্ত ঘটনার কথা জানিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে পুরনো নথি ও তথ্য। বেলা গড়াতেই অভিবাসন দফতর নিশ্চিত হয় যে পরিবারটি আসলে বাংলাদেশের পরিবার। গোটা পরিবারকে গ্রেফতার করেছে অভিবাসন দফতর। দম্পতির নাবালিকা কন্যাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর এনজেপি থানায় ধৃতদের তুলে দেয় পুলিশ। রবিবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। আপাতত তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।