মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান লাভলি খাতুন নিজের পদ হারিয়েছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ায়। এসআইআরের পরে দেখা গেল, সেই বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশি নাগরিকের নামই রয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায়। লাভলির আসল নাম নাসিয়া শেখ। অভিযোগ, পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে তিনি ভারতে ঢোকেন। বাবার নাম বদলে ফেলেন। এরপর ২০১৫ সালে তাঁর ভারতীয় ভোটার কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল। আর তারপরে ২০১৮ সালে তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট বেরিয়েছিল। এই আবহে লাভলির নাম কীভাবে এল ভোটার তালিকায়?

অভিযোগ, বিএলও-কে চাপ দিয়ে লাভলি এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছিলেন। এই আবহে খসড়া তালিকায় লাভলি খাতুনের নাম ছিল। এদিকে লাভলির বুথেই ৩৪ জনের নাম বাদ পড়েছিল খসড়া তালিকায়। এই বিতর্কের আবহে কমিশন বলেছিল, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে, এমনও নয়। ফর্মে অসঙ্গতি লক্ষ্য করলেই হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে সংশ্লিষ্ট ভোটার। শুনানিতে ভোটারের নথি খতিয়ে দেখা হবে। এই আবহে লাভলিকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। তাঁর নাম 'বিচারাধীন' ছিল। পরে দেখা যায়, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতেই লাভলির নাম আছে।
এর আগে লাভলির নাগরিকত্ব নিয়ে মামলা চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর পঞ্চায়েতের সদস্যপদ, প্রধানের পদ এবং ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছিল প্রশাসন। কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে এহেন লাভলির নাম ভোটার তালিকায় থাকায় সরব হয়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের অভিযোগ, কমিশনের কোনও কোনও অফিসারের ব্যর্থতার জন্য এই সব হচ্ছে। অবিলম্বে লাভলির নাম বাতিল নিয়ে পদক্ষেপের জন্য আর্জি জানিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল।
প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে গোটা রাজ্যে বাদ পড়ে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন। তারপর 'চূড়ান্ত তালিকায়' আরও প্রায় ৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এবং রিপোর্টে দাবি করা হয়, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে প্রায় ১০ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়ে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭০ লাখেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে।
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত, এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্বে গোটা রাজ্যে বাদ পড়ে প্রায় ৫৮ লাখ ভোটারের নাম। এই সব ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্মই জমা পড়েনি। তাই খসড়া তালিকা থেকেই বাদ পড়েছিল তাদের নাম। এর মধ্য়ে মৃত ভোটার ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২, নিখোঁজ ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন, স্থানান্তরিত রয়েছেন ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন, ভুয়ো ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭ হাজার জন। তারপর 'চূড়ান্ত তালিকায়' আরও প্রায় ৫ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এবং রিপোর্টে দাবি করা হয়, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে প্রায় ১০ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়ে থাকতে পারে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ৭০ লাখেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে।
{{/usCountry}}