ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ফের অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা। বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের উত্তর দিনাজপুরে ঢোকার চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশের এক যুবক। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর রবিবার রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় ফের প্রশ্ন উঠছে—সীমান্তে বেআইনি ভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে ঢোকার চেষ্টা কেন বারবার হচ্ছে এবং এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির দায়ই বা কার? সীমান্তে বিজিবি কোথায়? রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তের দেড় কিমি ভিতরে এই পাচারকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার ভোরে। বাংলাদেশের বিজিবি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে চার বাংলাদেশি ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আইয়ুব আলী। সেই সময় ভারতের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহলদল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলিতে আসাদুল হক, মোস্তাকিম এবং উদা রায় নামে তিন জন আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৮ বছরের আসাদুলের মৃত্যু হয়। অন্য দুই আহতকে চিকিৎসার পর রায়গঞ্জ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই ঘটনায় আইয়ুব আলী নিখোঁজ বলে দাবি করা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বাংলাদেশের সরকারি বক্তব্যেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টার কথা উঠে এসেছে। ফলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, নিয়মিত সীমান্ত পারাপার, চোরাচালান কিংবা অননুমোদিত প্রবেশের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশি প্রশাসন কতটা কার্যকর? সীমান্তে বেআইনি প্রবেশের চেষ্টা হলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী যে সতর্ক থাকবে, সেটিই স্বাভাবিক। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও ঠিক কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, তা নিয়ে ভারতীয় পক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য সামনে আসা এখনও বাকি।
নিহত আসাদুল পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এ প্রশ্নও উঠছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছিল?
{{/usCountry}}নিহত আসাদুল পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এ প্রশ্নও উঠছে, সীমান্তে অনুপ্রবেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছিল?
{{/usCountry}}ঘটনার পর বিএসএফের সঙ্গে বিজিবির একাধিক দফা আলোচনা হয়। ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসান জানিয়েছেন, প্রথমে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ একজন নিহত এবং দু’জনকে আটক করার কথা জানায়। পরে পরপর তিন দফা আলোচনা ও পতাকা বৈঠকের পর রবিবার রাত ৮টা নাগাদ দানাজপুর সীমান্তের পিলারসংলগ্ন এলাকায় আসাদুলের মরদেহ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় পীরগঞ্জ থানার পুলিশ এবং ভারতের রায়গঞ্জ থানার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় আরও একটি বিষয় নজরে এসেছে। বাংলাদেশি প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চার জনের মধ্যে একজন এখনও নিখোঁজ। বাকি দু’জন আহত হওয়ার পর ভারতীয় পুলিশের হেফাজতে গিয়েছেন। অর্থাৎ পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, তাঁরা কেন সীমান্ত পেরোতে চেয়েছিলেন এবং তাঁদের গতিবিধি আগে থেকে নজরে ছিল কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা একটি গুরুতর বিষয়। অনুপ্রবেশের চেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু সীমান্তরক্ষীদের জন্য নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশকে তাই আগে নিজেদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্ত করা, নাগরিকদের বেআইনি ভাবে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো এবং এমন ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার দিকে জোর দিতে হবে।