দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও একটি বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। এই বহুল আলোচিত মামলায় কবীর মোল্লা নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কবীরকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), বারুইপুরের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল। এই গ্রেফতারের পর মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার। যদিও এরই মধ্যে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। অপরদিকে গণপিটুনি, পুলিশকে মারধরের ঘটনাতেও পদক্ষেপ করেছে তল্লাশি চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই কবীর মোল্লা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে তদন্তকারীদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল। দীর্ঘদিন ধরে তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল তদন্তকারী সংস্থাগুলি। অবশেষে গোপন সূত্রে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর বসিরহাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে বারুইপুরে নিয়ে আসা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, কবীর মোল্লার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় তার ভূমিকা কী ছিল, কারা পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না। পুলিশ জানিয়েছে, এই মামলার কোনও অভিযুক্তকেই ছাড়া হবে না এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, এই নৃশংস ঘটনার পর বারুইপুর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাবালিকার মৃত্যুর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কিছু উত্তেজিত ব্যক্তি পুলিশের উপর হামলা চালায়। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এই ঘটনাগুলিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
{{/usCountry}}এই ঘটনাগুলিকেও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
{{/usCountry}}বারুইপুর জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত যেমন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে, তেমনই পুলিশের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশের দাবি, এই মামলার তদন্তে প্রতিটি দিক অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে দ্রুত চার্জশিট পেশের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো এবং নাবালিকার পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করা।