বারুইপুরে নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া হিংসা, ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বারুইপুরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-এর যৌথ অভিযানে এই পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় হিংসা ছড়ানো, গণপিটুনিতে উসকানি দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অশান্ত করার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে এবং আগামী দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। বারুইপুরের এক নাবালিকা গত শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল। পরদিন রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয় মামলার মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
এই ঘটনার পরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায়। নাবালিকার দেহ নিয়ে বিক্ষোভ চলাকালীন সন্দেহের বশে এক যুবককে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার পর বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, তিনি নির্দোষ ছিলেন। এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন, এই হিংসার পিছনে সাম্প্রদায়িক উসকানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এরপরই শুরু হয় পুলিশের ধারাবাহিক ধরপাকড়। প্রথম দফায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়। রাতের অভিযানে ধরা পড়ে আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত **৩৫ জনকে গ্রেপ্তার** করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, হিংসার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল।
{{/usCountry}}এরপরই শুরু হয় পুলিশের ধারাবাহিক ধরপাকড়। প্রথম দফায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে আরও ১২ জনকে আটক করা হয়। রাতের অভিযানে ধরা পড়ে আরও পাঁচজন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত **৩৫ জনকে গ্রেপ্তার** করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, হিংসার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল এবং কারা এর নেপথ্যে ছিল।
{{/usCountry}}পুলিশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে এবং উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোন, ডিজিটাল তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন।
অন্যদিকে, নাবালিকা হত্যাকাণ্ডের তদন্তও সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডলই এই অপরাধের মূল অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, তার বিকৃত মানসিকতার কারণেই নাবালিকাকে এই নৃশংস ঘটনার শিকার হতে হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
এদিকে শনিবার ফের বারুইপুর সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সেখানে তিনি একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যেই ফাঁড়ি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রশাসনের আশা, নতুন পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলে এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় পুলিশ আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।