বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তবে ২২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি এখনও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়নি। বর্তমানে এটি ডিপ্রেশনের পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুত গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে সিস্টেমটির অবস্থান ছিল উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কাছে, প্রায় ১৭.৭ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৭.৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। পুরীর দক্ষিণ-পূর্বে এবং গোপালপুরের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার দূরে ছিল সেটি। এরপর পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝামাঝি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল দিয়ে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে।
সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
{{/usCountry}}শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও এই আবহাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে। সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিস্টেমটি কতটা শক্তি সঞ্চয় করে এবং কোন পথে এগোয়। এই মুহূর্তে IMD-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলায় সরাসরি স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু এর প্রভাবে কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।