Beldanga Violence Case Update: বেলডাঙায় হিংসার ঘটনায় ১৫ অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। সেই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এনআইএ। এনআইএ-র আবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করেই অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হয়েছে। এই আবহে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চে মামলা দায়ের করে নিম্ন আদলতের নির্দেশ বাতিল করার আবেদন জানিয়েছে এনআইএ।

প্রসঙ্গত, মামলার ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করতে পারেনি এনআইএ এই পরিস্থিতিতে জামিনের আবেদন করেন ধৃতদের আইনজীবী। সেই মতো ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করে দেয় এআইএ-র বিশেষ আদালত। এদিকে এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়েছিল। এই আবহে এনআইএ-র প্রশ্ন, নিম্ন আদলত কীভাবে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করল?
উল্লেখ্য, জানুয়ারি মাসে ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখ নামে এক ফেরিওয়ালার মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পরে জানা যায়, আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ঝাড়খণ্ডে গিয়ে সেখানকার পুলিশের তথ্যপ্রমাণ দেখে এসেছিল। তবে বেলডাঙা এর জেরে অশান্ত ছিল বেশ কয়েকদিন। বেলডাঙা স্টেশ সংলগ্ন রেলগেটে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল সেই সময়। রেলের সিগন্যালও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। রেললাইনে বাঁশ ফেলে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এর জেরে ব্যাহত হয়েছিল রেল পরিষেবা। সড়কপথেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। বড়ুয়া মোড় কাছে রাস্তায় অবরোধ করা হয়েছিল। তার জেরে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ায় দাঙ্গাবাজরা। মারধর করা হয়েছিল সাংবাদিকদেরও। জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্রসাংবাদিককে মারধর করা হয়েছিল। পরে আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক। সেই সময় হাইকোর্ট বলেছিল, কেন্দ্র যদি মনে করে, তাহলে বেলডাঙার হিংসা নিয়ে এনআইএ তদন্ত হতে পারে। সেই মতো তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তবে সেই তদন্ত ঠেকাতেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল রাজ্য। যদিও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট। পরে এনআইএ-কে অসহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছিল মমতার পুলিশের বিরুদ্ধে।