WB Govt on Industry and Jobs: রাজ্যে শিল্পস্থাপন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংস্থাকে জমি লিজ দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে রাজ্যে প্রায় ৬৮ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা ডব্লিউবিআইডিসিএল-এর আটটি শিল্পপার্কে ২৪টি শিল্প ইউনিটকে জমি লিজ দেওয়া হবে। মোট ৪৬৩.১৪ একর এবং ৬৩৯৭.২৩ বর্গফুট জমি এই শিল্প সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এই শিল্প ইউনিটগুলিতে প্রায় ৬২ হাজার ৭১২ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বড় সংখ্যায় নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর পাশাপাশি ডব্লিউবিআইআইডিসি-র চারটি শিল্পপার্কে আরও ৯টি শিল্প ইউনিটকে জমি দেওয়া হচ্ছে। মোট ৭৮.১৭৮৬ একর জমি বরাদ্দ করা হবে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে আরও ৫ হাজার ৮৭২ জনের কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই সিদ্ধান্ত মিলিয়ে মোট ৩৩টি শিল্প ইউনিটকে জমি দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন মিলেছে। সরকারের আশা, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে শিল্পের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্তরেও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
শুধু শিল্প নয়, মাদকবিরোধী লড়াইয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। নিষিদ্ধ মাদকের প্রবেশ রুখতে রাজ্যে অ্যান্টি নারকোটিক টাস্ক ফোর্স বা মাদকবিরোধী বিশেষ বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। মাদক পাচার, বেআইনি মাদক ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে এই বাহিনী বিশেষভাবে কাজ করবে। নেশামুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তার তত্ত্বাবধানে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে। মাদক পাচার, বেআইনি মাদক ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে এই বাহিনী বিশেষভাবে কাজ করবে। নেশামুক্ত সমাজ গড়ার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
{{/usCountry}}চা বাগান নিয়েও এদিন বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। চা বাগানের জমি চা পর্যটন এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়মে চা বাগানের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ জমি অন্য ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে কোনও ক্ষেত্রেই ১৫০ একরের বেশি জমি ব্যবহার করা যাবে না।
পরিবেশগত সমস্যার কথা মাথায় রেখে ‘চা পর্যটন ও আনুষাঙ্গিক ব্যবসা নীতি, ২০১৯’-এ সংশোধন আনা হবে। অর্থাৎ চা বাগানের জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও নির্দিষ্ট নিয়ম চালু হতে চলেছে।
আলিপুরদুয়ারের সঙ্কোষ চা-বাগানের প্রায় ১১৮.৪২ একর জমি ফের সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির চামুরচি চা-বাগানের ০.৬৯ একর জমিও ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে একটি ফ্রন্টিয়ার চেকপোস্ট এবং ওসিআর কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মালদহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে রাস্তা তৈরি এবং সীমান্ত বেড়া দেওয়ার জন্য ১৩.৯১৪১ একর সরকারি খাস জমি বিএসএফকে দেওয়া হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে একাধিক নতুন পদ তৈরির সিদ্ধান্তও হয়েছে। পদকজয়ী ক্রীড়াবিদ পুজা দাসকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই নিয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও রাজ্যের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএফ সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে আরও সুসংহত করতে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিস ল’জ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ বিধানসভায় পেশ করা হবে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থাগুলিকে আরও এক কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করবে রাজ্য সরকার।
সব মিলিয়ে বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শিল্প, কর্মসংস্থান, মাদকবিরোধী অভিযান, চা বাগান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সংস্কার—একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পের জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত রাজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে সরকার।