উৎসবের মরশুমে পশ্চিমবঙ্গের কোষাগারে এল বড় অঙ্কের অর্থ। কেন্দ্রীয় করের ভাগ হিসাবে রাজ্যকে ৭৮৬৬ কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর দেশের ২৮টি রাজ্যের জন্য মোট ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা ছাড় করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। সাধারণত প্রতি মাসের ১০ তারিখে রাজ্যগুলিকে করের ভাগের টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির আর্থিক চাপের কথা মাথায় রেখে এ বার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই টাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাবে রাজ্যগুলি।

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এই দফায় সব রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়েছে ১৯ হাজার ২০৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। নীতীশ কুমারের রাজ্য পেয়েছে ১০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে মধ্যপ্রদেশ। ওই রাজ্যের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৮০১০ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার প্রাপ্তি ৭৮৬৬ কোটি টাকা। পঞ্চম স্থানে থাকা মহারাষ্ট্র পেয়েছে ৭০২২ কোটি টাকা।
এ ছাড়াও রাজস্থান পেয়েছে ৬৪৬০ কোটি টাকা। ওড়িশার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪৮১৯ কোটি টাকা। অন্ধ্রপ্রদেশ পেয়েছে ৪৫৯৭ কোটি টাকা। কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর প্রাপ্তি যথাক্রমে ৪৫০৪ কোটি ও ৪৪৬৬ কোটি টাকা। গুজরাতের ভাগে জুটেছে ৪০৯৪ কোটি টাকা। অন্য দিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে অসম পেয়েছে ৩৫৫২ কোটি টাকা। ত্রিপুরার বরাদ্দ ৬৯৯ কোটি টাকা। সিকিম পেয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা। তালিকায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছে সিকিম।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে মূলধনী খাতে খরচ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও নিশ্চিত করা যাবে। বিশেষ করে পরিকাঠামো নির্মাণ, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে খরচের গতি বাড়াতে এই অর্থ সাহায্য করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উৎসবের মরশুমে রাজ্যগুলির হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলে মূলধনী খাতে খরচ বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের জোগানও নিশ্চিত করা যাবে। বিশেষ করে পরিকাঠামো নির্মাণ, রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রগুলিতে খরচের গতি বাড়াতে এই অর্থ সাহায্য করবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, ৫ নভেম্বরের এই অর্থ ছাড়কে নতুন কোনও বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ হিসাবে দেখার অবকাশ নেই। এটি কেন্দ্রীয় করের নিয়মিত মাসিক কিস্তি। শুধু নির্ধারিত ১০ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ নভেম্বর তা রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৩১ অক্টোবরও রাজ্যগুলিকে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৯ কোটি টাকা দিয়েছিল কেন্দ্র। অর্থাৎ, কয়েক দিনের ব্যবধানে দু'দফায় মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৩৮ কোটি টাকা রাজ্যগুলির জন্য ছাড়া হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই অর্থপ্রাপ্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতে নিয়মিত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই জায়গায় কেন্দ্রীয় করের ভাগ আগাম হাতে আসায় রাজ্যের আর্থিক পরিকল্পনায় কিছুটা সুবিধা হবে। এখন দেখার, এই অর্থ কোন কোন খাতে এবং কত দ্রুত খরচ করে রাজ্য সরকার।