Subhranshu Roy Accuses Abhishek Banerjee: চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন মুকুল রায় (Mukul Roy)। তাঁর শেষ যাত্রায় শেষ পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। বিধানসভায় মুকুল রায়ের মরদেহে মাল্যদানের পর থেকে কাঁচরাপাড়ায় গিয়ে তাঁর শেষ যাত্রায় পা পর্যন্ত মেলাল তিনি। শেষে হালিশহর শ্মশানের শেষকৃত্যের সময়ও উপস্থিত ছিলেন তিনি। আগাগোড়াই মুকুল রায়-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের (Subhranshu Roy) পাশে দেখা গিয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপর নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে, ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। ইতিমধ্যে বহু দলত্যাগী, প্রাক্তন নেতা-নেত্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। এবার তৃণমূল সাংসদের বিস্ফোরক দাবি করলেন মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়। সেই সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি।

সংবাদমাধ্যম 'টিভি৯ বাংলা'-কে এক সাক্ষাৎকারে বিজেপিত্যাগী শুভ্রাংশু রায় বলেন, তাঁর বাবার মৃতদেহ আসলে হাইজ্যাক করেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের জন্য তাঁর বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসতে পারেননি অনেকে। তাঁর কথায়, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাঝরাতে খবর জানিয়েছিলাম। কোনও উত্তর পাইনি। এরপর আমার এক পরিচিত এবং বাবার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে শুভেন্দুদা (শুভেন্দু অধিকারী) খোঁজ নেন। আমার ফোন নম্বর নেন। সকালে আমাকে ফোন করেছিলেন। হঠাৎ সকাল আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ অভিষেকবাবুর পিএ সুমিত রায় ফোন করে বলেন, ‘সমস্ত দায়িত্ব দাদা নিতে বলেছেন। তুমি হাসপাতালে যাও। সেখানে পার্থদা (পার্থ ভৌমিক) ও সুজিত বসু থাকবে।’ হাসপাতালে যাই। তখন বাবার কাছেও যেতে দেওয়া হয়নি। বাবার মৃতদেহ তখন একটা জায়গায় রাখা রয়েছে। সুজিত বসু ১১টা নাগাদ আসে। বলে, মৃতদেহ বিধানসভায় নিয়ে যাব। বিধানসভায় অভিষেক আসে। সেখানে কার সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানি না। তারপর বলে, আমিও যাব কাঁচরাপাড়ায়।'
মুকুল রায়ের শেষ যাত্রার কথা স্মরণ করে শুভ্রাংশু রায় বলেন, 'সেই সময় আমাকেও অনেকে ফোন করেছিল আসার জন্য। অর্জুনদা (অর্জুন সিং), সৌমিত্র খাঁ, রাজ্যপাল ফোন করেছিলেন। তৃণমূলের অনেকেই ফোন করেছিলেন। পুলিশে এলাকা ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষও ঢুকতে পারেনি। আমি সেই সময় কিছু বলার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। তাই কিছু বলতে পারিনি।' এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুকুল-পুত্র। তিনি বলেন, 'ক্ষোভটা থাকা স্বাভাবিক নয় বলুন। যে লোকটা নিজের জীবন যৌবন দিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে মনোমালিন্য হওয়ায় অন্য দলে যান। তারপর তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়। তাঁর উপর ইট ছোড়া হয়। মারা হয়। পুনরায় তিনি ফিরে আসেন চাপের কারণে। ২০২১ সালে বিজেপি হারার পর আমার ব্যবসায়িক কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়। আমার গাড়ির পিছনে অন্য গাড়ি ফলো করা শুরু করে। বাবার উপর তৃণমূলে ফেরার চাপ দেওয়া হয়। তখনই বাবা তৃণমূলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।' বিভিন্ন মানসিক চাপ দিয়ে তাঁর বাবাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভ্রাংশু রায়। তবে এই নিয়ে আর অভিযোগ জানাতে চান না। তিনি বলেন, 'মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না।' বলে রাখা প্রয়োজন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায় এবং শুভ্রাংশু রায় বিজেপি থেকে তৃণমূলের ফিরে এসেসিলেন।
{{/usCountry}}মুকুল রায়ের শেষ যাত্রার কথা স্মরণ করে শুভ্রাংশু রায় বলেন, 'সেই সময় আমাকেও অনেকে ফোন করেছিল আসার জন্য। অর্জুনদা (অর্জুন সিং), সৌমিত্র খাঁ, রাজ্যপাল ফোন করেছিলেন। তৃণমূলের অনেকেই ফোন করেছিলেন। পুলিশে এলাকা ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষও ঢুকতে পারেনি। আমি সেই সময় কিছু বলার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলাম না। তাই কিছু বলতে পারিনি।' এখানেই শেষ নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুকুল-পুত্র। তিনি বলেন, 'ক্ষোভটা থাকা স্বাভাবিক নয় বলুন। যে লোকটা নিজের জীবন যৌবন দিয়ে দলটাকে দাঁড় করিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে মনোমালিন্য হওয়ায় অন্য দলে যান। তারপর তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়। তাঁর উপর ইট ছোড়া হয়। মারা হয়। পুনরায় তিনি ফিরে আসেন চাপের কারণে। ২০২১ সালে বিজেপি হারার পর আমার ব্যবসায়িক কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়। আমার গাড়ির পিছনে অন্য গাড়ি ফলো করা শুরু করে। বাবার উপর তৃণমূলে ফেরার চাপ দেওয়া হয়। তখনই বাবা তৃণমূলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।' বিভিন্ন মানসিক চাপ দিয়ে তাঁর বাবাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভ্রাংশু রায়। তবে এই নিয়ে আর অভিযোগ জানাতে চান না। তিনি বলেন, 'মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না।' বলে রাখা প্রয়োজন, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর মুকুল রায় এবং শুভ্রাংশু রায় বিজেপি থেকে তৃণমূলের ফিরে এসেসিলেন।
{{/usCountry}}মুকুল রায়ের মৃত্যুর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খোঁজ নেননি জানিয়ে শুভ্রাংশু রায় বলেন, 'বাবার কেউ খোঁজ নিতেন না। বাবা মারা যাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসেননি। ফোনও করেননি। একটা আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। অথচ শমীক ভট্টাচার্য বাবা অসুস্থ থাকাকালীন দেখতে গিয়েছিলেন। সৌমিত্র খাঁ বারংবার খোঁজ নিয়েছেন, দেখতে গিয়েছেন। দিব্যেন্দু অধিকারী ও শুভেন্দু অধিকারী খোঁজ নিয়েছেন।' একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করেন বলে অভিযোগ করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার আগে বিভিন্ন জেলা থেকে দলের কর্মীদের মৃতদেহ কলকাতায় এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিছিল করতেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। রবিবার মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হালিশহরে এসেছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ।
উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে মুকুল রায়ই দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে ছিলেন। মুকুল রায়ের দলত্যাগের পর সেই দায়িত্ব পেয়েছিলেন অভিষেক। এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাট তৃণমূল শিবিরে সেই দায়িত্বেই রয়েছেন।