রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরও তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত। বিরোধী দল হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে এসেছে বিজেপি। কিন্তু সম্প্রতি দলের একাংশের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় এবার কঠোর অবস্থান নিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং তোলাবাজি-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করতে বৃহস্পতিবার সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য দফতরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল।

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বারবার দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন। সেই অবস্থানকেই আরও জোরালো করে এদিন জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বনসল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এমন কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট কিংবা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে খবর, বুথ স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগ সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন কর্মী ও পদাধিকারীকে বহিষ্কার কিংবা সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি বলেই মনে করছে নেতৃত্ব। সেই কারণেই জেলা ধরে ধরে বিশেষ বৈঠক শুরু করেছেন সুনীল বনসল। বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় কলকাতা উত্তর শহরতলি এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয়।
বৈঠকে বনসল স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, 'গলতি একবার হোতি হ্যায়, বারবার গলতি নেহি হোতি। আজকে বাদ কই গলতি হোগা অর কই গলত কাম করেগা, উসকে খিলাফ ব্যবস্থা লিয়া জায়েগা।' অর্থাৎ ভুল একবার হতে পারে, কিন্তু একই ভুল বারবার করলে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। দলবিরোধী বা নীতিবিরুদ্ধ কাজে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়ে দেন।
{{/usCountry}}বৈঠকে বনসল স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, 'গলতি একবার হোতি হ্যায়, বারবার গলতি নেহি হোতি। আজকে বাদ কই গলতি হোগা অর কই গলত কাম করেগা, উসকে খিলাফ ব্যবস্থা লিয়া জায়েগা।' অর্থাৎ ভুল একবার হতে পারে, কিন্তু একই ভুল বারবার করলে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। দলবিরোধী বা নীতিবিরুদ্ধ কাজে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়ে দেন।
{{/usCountry}}বৈঠকে নিচুতলার সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, কোনও জেলা সভাপতি বা বিধায়কের সিদ্ধান্তই এককভাবে চূড়ান্ত হবে না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা কোর কমিটিকে ছোট ও কার্যকর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
এছাড়াও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলের মধ্যে কোনওভাবেই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-রাজ কিংবা বেআইনি প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি চলবে না। তৃণমূল আমলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল, এমন কোনও দুষ্কৃতীকে দলে জায়গা না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়গুলির উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজেপির বিধায়কদেরও।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আরও জানিয়ে দিয়েছে, জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও নীতিবিরোধী কাজ বা দুর্নীতির অভিযোগ এলে তা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থানীয় নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখাই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই দলবিরোধী কার্যকলাপের ক্ষেত্রে কোনও আপস নয়—এই বার্তাই এদিন স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন সুনীল বনসল।