খড়দহে বিজেপির অন্দরের বিবাদ এবার রাস্তায়। দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল বন্দিপুর এবং পাতুলিয়া এলাকায়। অভিযোগ, প্রথমে বচসা। তার পর হাতাহাতি। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে শুরু হয় বোমাবাজি। আহত হন চার বিজেপি কর্মী।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার রাতে। বন্দিপুরের ঠাকুর কলোনি এলাকায় বিজেপির একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে তোলাবাজি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দলের মধ্যে তৃণমূলীকরণ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। এই বিষয় নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরে শুরু হয় সংঘর্ষ।
অভিযোগ, সেই সময়েই বোমা ছোড়া হয়। ঘটনায় চার জন বিজেপি কর্মী জখম হন। তাঁদের দ্রুত বন্দিপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল না। আহতদের দেখতে আসা দুই পক্ষের লোকজন ফের বিবাদে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। জরুরি বিভাগের সামনে শুরু হয় মারপিট। এর মধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরেও বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
আচমকা এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়। খবর পেয়ে রহড়া থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে সেখানে পৌঁছয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনায় অবশ্য দুই পক্ষের অভিযোগই রয়েছে। এক গোষ্ঠীর দাবি, দলের কয়েক জন নেতা বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পুরনো কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছেন। অন্য গোষ্ঠীও পালটা অভিযোগ তুলেছে। কারা হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
{{/usCountry}}ঘটনায় অবশ্য দুই পক্ষের অভিযোগই রয়েছে। এক গোষ্ঠীর দাবি, দলের কয়েক জন নেতা বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে পুরনো কর্মীদের উপর হামলা চালাচ্ছেন। অন্য গোষ্ঠীও পালটা অভিযোগ তুলেছে। কারা হামলা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
{{/usCountry}}পরিস্থিতি সামলাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও রাখা হয়েছে বলে খবর। এর মধ্যেই পাতুলিয়া এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে পঞ্চায়েত সদস্য আশিস চক্রবর্তীর বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ফলে এক রাতের গোলমালের পরেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রহড়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজেপির উত্তর শহরতলী জেলা সভাপতি চন্ডীচরণ রায় জানিয়েছেন, দলের মধ্যে গোলমালের খবর তিনি পেয়েছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। দলের কেউ ঘটনায় জড়িত থাকলে সংগঠনের তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভোটের আগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ নিয়ে যখন উত্তেজনা রয়েছে, তখন খড়দহে বিজেপির অন্দরের এই প্রকাশ্য সংঘর্ষ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দলের গোষ্ঠীকোন্দল কতটা গভীরে, সেই প্রশ্নও উঠছে। আপাতত নজর পুলিশের তদন্তের দিকে।