দুর্গাপুজোর আবহে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এ বার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, বামপন্থীদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আদর্শগত মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তাঁদের বই বিক্রি করতে দেওয়া হবে না। একাধিক জায়গায় এমন ঘটনা ঘটায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে, স্বপনের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী যখন পুজোয় বামেদের বুকস্টল বসতে না দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তখন কেন প্রতিবাদ করেননি স্বপন?
‘একটা জায়গায় হলে বুঝতাম, তিন-চার জায়গায় হয়েছে’

সোমবার সকালে একটি পুজোমণ্ডপে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে গিয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানেই বামেদের বইয়ের স্টলে হামলার প্রসঙ্গে মুখ খোলেন তিনি। স্বপনের কথায়, “মাথা নত করে দিয়েছে।” তাঁর বক্তব্য, একটি জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে এক রকম ছিল। কিন্তু তিন-চারটি জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি মেনে নেওয়া যায় না।
স্বপন বলেন, “বামেদের সঙ্গে আমাদের একটা নৈতিক বিবাদ আছে। কিন্তু তা বলে বই বিক্রি করতে দেবে না? তারা কারা?” তাঁর প্রশ্ন, কারা এই হামলা চালানোর অধিকার দিল? এমন ঘটনা কোনও ভাবেই সমর্থন করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার জন্য লজ্জিত বলেও জানান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।
বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। সেই প্রসঙ্গে স্বপনের প্রশ্ন, বিজেপির নাম করে কারা এই কাজ করছে এবং তাদের সাহস জোগাচ্ছে কে? অর্থাৎ, হামলার অভিযোগকে সমর্থন না করে বরং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
যাদবপুরে স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ
গত কয়েক দিনে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বামপন্থীদের দু’টি বুকস্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের কলোনি মোড় ও চাঁপাডালি মোড়ে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া, চেয়ার-টেবিল উল্টে দেওয়া এবং বই রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল বাম শিবির। নিরাপত্তার কারণে বারাসাতের স্টল দু’টি সাময়িক ভাবে বন্ধও রাখা হয়।
{{/usCountry}}গত কয়েক দিনে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সপ্তমীর রাতে যাদবপুরে বামপন্থীদের দু’টি বুকস্টল ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতের কলোনি মোড় ও চাঁপাডালি মোড়ে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া, চেয়ার-টেবিল উল্টে দেওয়া এবং বই রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল বাম শিবির। নিরাপত্তার কারণে বারাসাতের স্টল দু’টি সাময়িক ভাবে বন্ধও রাখা হয়।
{{/usCountry}}বিজপুরেও সিপিএমের একটি বইয়ের স্টলে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। কলকাতার এন্টালি-সহ আরও কয়েকটি এলাকায় বুকস্টল বসানো নিয়ে বিরোধের খবর সামনে এসেছে। সিপিএমের দাবি, দুর্গাপুজোয় বইয়ের স্টল বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। সেখানে বাধা দেওয়া আসলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।
শতরূপের পাল্টা প্রশ্ন, ‘তখন প্রতিবাদ করেননি কেন?’
স্বপন দাশগুপ্তের মন্তব্যের পর পাল্টা সরব হয়েছেন বাম নেতা শতরূপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বুকস্টল ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভার ভিতর থেকেই। প্রায় এক মাস আগে মুখ্যমন্ত্রী পুজোয় বামেদের বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন, এমনই অভিযোগ শতরূপের।
তাঁর প্রশ্ন, সেই সময় স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় উপস্থিত থাকলেও কেন প্রতিবাদ করেননি? কেন তখন এই অবস্থানের বিরোধিতা করেননি তিনি? ফলে বুকস্টলে হামলার নিন্দা করলেও স্বপনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাম শিবির।
দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যে বইয়ের স্টল ঘিরে এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আদর্শগত বিরোধের কারণে বই বিক্রিতে বাধা দেওয়া বা হামলা চালানোর অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। তবে স্বপন দাশগুপ্তের মন্তব্যে অন্তত একটি বিষয় উঠে এসেছে— রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বই বিক্রি ও মতপ্রকাশের অধিকারকে অস্বীকার করা যায় না।