কোচবিহারের শীতলকুচিতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার অভিযোগে বিজেপির এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম পঙ্কজ সাহা। তিনি বিজেপির কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি শিবিরও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ অগস্ট শীতলকুচির বামনপাড়া এলাকার এক ব্যবসায়ীর ছেলে ইসলাম মিঞা ধান কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। তাঁর গন্তব্য ছিল গোসাইহাট এলাকা। পরিবারের দাবি, সকালেই তিনি ধান কেনার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার আগে তাঁকে ফোন করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে নেওয়া হয়।
অভিযোগ, সেখানে পৌঁছনোর পর আচমকাই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলে। তাঁদের কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ। এরপর ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়। পরিবারের দাবি, পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
পরিবারের তরফে অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পরই ইসলাম মিঞাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে শীতলকুচি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সূত্র ধরেই বিজেপি নেতা পঙ্কজ সাহার নাম সামনে আসে। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃত বিজেপি নেতাকে বৃহস্পতিবার মাথাভাঙা মহকুমা আদালতে তোলা হয়। মামলায় অভিযোগকারী এবং তাঁর ছেলে অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী বাবলু বর্মন। আদালতে পঙ্কজ সাহার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ধৃত বিজেপি নেতাকে বৃহস্পতিবার মাথাভাঙা মহকুমা আদালতে তোলা হয়। মামলায় অভিযোগকারী এবং তাঁর ছেলে অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী বাবলু বর্মন। আদালতে পঙ্কজ সাহার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
{{/usCountry}}ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। কারণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের জেলা কমিটির সদস্য। এই নিয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির সভাপতি অভিজিৎ বর্মন জানিয়েছেন, কেউ অন্যায় করলে তাঁকে শাস্তি পেতেই হবে। দলের তরফে কোনও ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না বলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন।
অভিজিৎ বর্মনের বক্তব্য, পঙ্কজ সাহার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে দলগত ভাবেও উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর কথায়, আইন নিজের পথে চলবে এবং দলও সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী ব্যবসায়ী সইজার মিয়া জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে ওই দিন ধান কেনার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। পরে তাঁকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নেওয়ার ঘটনা জানতে পেরে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পুলিশ এখন পুরো ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে। অপহরণের সময় কতজন সেখানে উপস্থিত ছিল এবং মুক্তিপণের টাকা কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়গুলিও তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একদিকে ফৌজদারি মামলায় বিজেপি নেতার গ্রেফতারি, অন্যদিকে দলীয় স্তরে কড়া বার্তা—শীতলকুচির এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক দুই মহলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।