প্রায় ১৬ বছর আগে ঘোষিত হলেও এখনও বাস্তবের মুখ দেখেনি বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত জটিলতা ও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প। এবার সেই প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি এবং ব্যারাকপুর স্টেশনের সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি তুলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে চিঠি দিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি।

শুক্রবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী এবং বিধায়কেরা। সেই বৈঠকেই বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন কৌস্তভ বাগচি। পাশাপাশি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন বলে জানা গিয়েছে।
চিঠিতে কৌস্তভ বাগচি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যারাকপুরের মানুষ মেট্রো পরিষেবার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাই প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রেলমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, মেট্রো পরিষেবা চালু হলে উত্তর শহরতলির লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত হবে।
শুধু মেট্রো প্রকল্প নয়, ব্যারাকপুর রেলস্টেশনের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও একাধিক দাবি জানিয়েছেন বিধায়ক। তিনি রেলমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করলেও বহু গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেন সেখানে থামে না। তাই মা তারা এক্সপ্রেস, ভাগীরথী এক্সপ্রেস, তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস, কাটিহার এক্সপ্রেস, শিয়ালদহ-বলিয়া এক্সপ্রেস, পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস, গৌড়বঙ্গ এক্সপ্রেস, কলকাতা-গুয়াহাটি গরিব রথ এবং গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও ব্যারাকপুর স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর আওতায় এনে আধুনিকীকরণের আবেদন করা হয়েছে। যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতে নতুন টিকিট কাউন্টার, উন্নত শৌচালয় এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত যাত্রীদের সুবিধার্থে ব্যারাকপুর ও টিটাগড় স্টেশনে লিফট বা এসকেলেটর স্থাপনের দাবিও তুলেছেন বিধায়ক।
{{/usCountry}}এছাড়াও ব্যারাকপুর স্টেশনকে ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর আওতায় এনে আধুনিকীকরণের আবেদন করা হয়েছে। যাত্রী পরিষেবা উন্নত করতে নতুন টিকিট কাউন্টার, উন্নত শৌচালয় এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত যাত্রীদের সুবিধার্থে ব্যারাকপুর ও টিটাগড় স্টেশনে লিফট বা এসকেলেটর স্থাপনের দাবিও তুলেছেন বিধায়ক।
{{/usCountry}}রেল চলাচল ও যানজট সমস্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে চিঠিতে। ১৪ নম্বর রেলগেটে উড়ালপুল বা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান হয়। পাশাপাশি ১ এবং ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ এবং দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ চালুর জন্য প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
তবে চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে হকারদের প্রসঙ্গ। স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযানের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন কৌস্তভ বাগচি। তিনি রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক। জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সমস্ত প্রস্তাব রেলমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রকল্পগুলির বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন।