মন্ত্রী মানেই কড়া নিরাপত্তা, দীর্ঘ গাড়ির বহর, হুটার ও সাইরেনের শব্দে রাস্তা ফাঁকা করে এগিয়ে চলা- রাজ্যের এই প্রচলিত ছবির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখার বার্তা দিলেন আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রী মনোজকুমার ওঁরাও এবং ফালাকাটার বিধায়ক তথা পূর্ণমন্ত্রী দীপক বর্মন। শুক্রবার কলকাতা থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসে নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশনে পৌঁছন মনোজকুমার ওঁরাও। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে পাইলট কারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু স্টেশন থেকে বেরিয়েই তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের অনুরোধ করেন, তাঁর যাতায়াতের সময় যেন কোনও হুটার বা সাইরেন ব্যবহার না করা হয়।

মনোজকুমার ওঁরাও বলেন, তিনি এই এলাকারই মানুষ। স্থানীয়রা তাঁকে কখনও মনোজ, কখনও আবার মিঠু নামে চেনেন। তাই মন্ত্রী পরিচয়ের কারণে সাধারণ মানুষের থেকে দূরে সরে যেতে তিনি চান না। বরং এলাকার মানুষের সঙ্গে আগের মতোই সহজ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত পুলিশকর্মী, রেলযাত্রী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
উল্লেখ্য, শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন মনোজকুমার ওঁরাও। একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করার পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। প্রথমে আরএসপির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। অন্যদিকে, পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার নিজের কেন্দ্র ফালাকাটায় ফিরে একই ধরনের বার্তা দেন দীপক বর্মন। তিনিও যাত্রাপথে হুটার ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। ফালাকাটায় পৌঁছে তিনি জানান, আগামী ১৮ জুন শুরু হতে চলা বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে এলাকার মানুষের মতামত সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সেই লক্ষ্যে ফালাকাটা শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রপ বক্স বসানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন, পরিকাঠামো কিংবা জনস্বার্থ সংক্রান্ত যে কোনও প্রস্তাব নাগরিকরা লিখিতভাবে সেখানে জমা দিতে পারবেন। মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করার কথাও জানান মন্ত্রী। দুই মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক প্রথার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}সেই লক্ষ্যে ফালাকাটা শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রপ বক্স বসানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন, পরিকাঠামো কিংবা জনস্বার্থ সংক্রান্ত যে কোনও প্রস্তাব নাগরিকরা লিখিতভাবে সেখানে জমা দিতে পারবেন। মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করার কথাও জানান মন্ত্রী। দুই মন্ত্রীর এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক প্রথার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখার বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
{{/usCountry}}