BJP Rajya Sabha Candidate Update: দলবদলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক পুরস্কার। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হল সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম। বৃহস্পতিবার রাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার শূন্য তিনটি আসনে এই তিন নেতাকেই প্রার্থী করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল, দলবদলের পর তাঁদের উচ্চকক্ষে পাঠাতে পারে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনাই সত্যি হল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। যোগদানের অনুষ্ঠানেই তাঁদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়। বিশেষ করে রাজ্যসভার শূন্য আসনে বিজেপি তাঁদের প্রার্থী করতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ দিল্লি থেকে প্রকাশিত বিজেপির বিজ্ঞপ্তিতে সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে বড় ভাঙন দেখা দেয়। সেই আবহেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তিনজনেরই সাংসদ হিসেবে এখনও দীর্ঘ মেয়াদ বাকি ছিল। সুখেন্দুশেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তাঁদের পদত্যাগের ফলে তিনটি আসন শূন্য হয় এবং নির্বাচন কমিশন আগামী ২৪ জুলাই ওই আসনগুলিতে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে।
তবে সংখ্যার নিরিখে এই নির্বাচনে তৃণমূলের কোনও প্রার্থী জেতানোর মতো পরিস্থিতি নেই। বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই তিনটি আসন গেরুয়া শিবিরের দখলে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত। সেই কারণেই বিজেপি এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
{{/usCountry}}তবে সংখ্যার নিরিখে এই নির্বাচনে তৃণমূলের কোনও প্রার্থী জেতানোর মতো পরিস্থিতি নেই। বিধানসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই তিনটি আসন গেরুয়া শিবিরের দখলে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত। সেই কারণেই বিজেপি এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল নেতাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
{{/usCountry}}এই প্রসঙ্গে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও প্রশ্ন উঠেছিল, সদ্য দলে যোগ দেওয়া তিন নেতাকেই কি রাজ্যসভায় পাঠানো হবে? জবাবে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন, “চর্চা চলুক না।” কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মন্তব্যের তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু তিন নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করল না, একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের প্রতি দলের আস্থার বার্তাও দিল। অন্যদিকে, একসময় তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় প্রতিনিধিত্ব করা সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক এবার একই সংসদের উচ্চকক্ষে বিজেপির প্রতিনিধিত্ব করতে চলেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই দলবদল এবং তার পরপরই রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।