যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ফের শুরু হয়েছে স্লোগান যুদ্ধ। একদিকে দেওয়াল মুছে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে তার উপরেই ফের নতুন স্লোগান লিখে দেওয়া হচ্ছে। দেশবিরোধী স্লোগানকে কেন্দ্র করে এই চাপানউতোরের আবহে এবার কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না বিজেপি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, দেশবিরোধী স্লোগান যারা লিখছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। প্রকাশ্য সভায় তিনি বলেন, 'দেশবিরোধী স্লোগান যাঁরা লিখবে, তাঁদের যেন পুলিশ সুস্থ না রাখে।' তিনি আরও মন্তব্য করেন, 'ভারত তেরি টুকরে হোঙ্গে' ধরনের স্লোগান যারা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান লেখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কোনও ধরনের দেশবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেওয়ালে লেখা বিভিন্ন গ্রাফিতি ও স্লোগান মুছে দেয়। কিন্তু সেই পদক্ষেপের পরেই নতুন করে শুরু হয় দেওয়াল লিখন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়াল ফের বিভিন্ন স্লোগানে ভরে ওঠে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির নাম সামনে আসে।
এর পর পাল্টা দেওয়াল লিখনে নামে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ‘আজাদি’ স্লোগানের জবাবে এবিভিপির পক্ষ থেকে লেখা হয় ‘ফ্রি পিওকে’। ফলে একেবারে প্রকাশ্যেই মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে দুই পক্ষ।
{{/usCountry}}এর পর পাল্টা দেওয়াল লিখনে নামে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ‘আজাদি’ স্লোগানের জবাবে এবিভিপির পক্ষ থেকে লেখা হয় ‘ফ্রি পিওকে’। ফলে একেবারে প্রকাশ্যেই মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে দুই পক্ষ।
{{/usCountry}}যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল যেন পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াইয়ের মঞ্চে। এক পক্ষের স্লোগানের জবাবে অন্য পক্ষের পাল্টা স্লোগান—এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নতুন করে শুরু হওয়া দেওয়াল লিখন নিয়ে কোনও বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন পরিবেশ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা—এই তিনটি বিষয়ও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশবিরোধী স্লোগানের অভিযোগ সত্যি হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, নাকি বিষয়টি ফের রাজনৈতিক চাপানউতোরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এখন সেদিকেই নজর।