...
...
Next Story

BJP Worker Murder: ক্ষমতায় আসার ৩ মাসেই বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিস্ফোরণ! বারুইপুরে কর্মী খুনে দলেরই ৪ জন গ্রেফতার

রবিবার রাতে বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৃণমূলের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি।

Published on: Aug 25, 2026, 13:19:58 IST
Advertisement

রাজ্যের ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক আদি ও সক্রিয় বিজেপি কর্মীকে খুনের ঘটনায় দলেরই চার সদস্যকে গ্রেফতার করল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সুজন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল চক্রী বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে জানা গিয়েছে, সুজন ইতিমধ্যেই বিজেপি থেকে সাসপেন্ডেড।

রবিবার রাতে বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক।
রবিবার রাতে বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক।

রবিবার রাতে বারুইপুরের উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকায় খুন হন বিজেপি কর্মী বাপি প্রামাণিক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাপি দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৃণমূলের আমলে রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল বলেও পরিবারের দাবি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর তিনি ফের নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। সম্প্রতি এলাকায় একটি দোকানও খুলেছিলেন তিনি।

কিন্তু রবিবার রাতে ফের বিপদ নেমে আসে। পরিবারের অভিযোগ, ফোন করে বাড়ি থেকে বাপিকে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর মাঝরাস্তায় তাঁকে ঘিরে হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়া এলাকা। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুজন মণ্ডলকে মূল অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, সুজন পরিকল্পনা করে কয়েকজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে বাপিকে খুন করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বারুইপুর পুলিশ।

ধৃতদের নাম সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। চারজনই উত্তর ট্যাঙ্গারবেড়িয়ার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে।

তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার পিছনে সুজন মণ্ডলের ভূমিকা রয়েছে। পুলিশ তাঁকেই মূল চক্রী হিসেবে দেখছে। তবে খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃতদের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, সেই প্রশ্নও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অন্দরেও তৈরি হয়েছে চাপানউতোর। গেরুয়া শিবিরের এক প্রাক্তন জেলা সভাপতি জানিয়েছেন, সুজন মণ্ডল বর্তমানে দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে আগেই দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগের দাবি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে দলের একাংশ।

অন্যদিকে নিহত বাপির পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় এবং পুরনো শত্রুতার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল। তবে খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের তদন্তের পরই পুরো বিষয়টি সামনে আসবে।

রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে দলেরই কর্মী খুন এবং সেই ঘটনায় দলের সঙ্গে যুক্ত বা প্রাক্তন সদস্যদের গ্রেফতার হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা তৈরি করেছে। এই ঘটনার পিছনে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কতটা দায়ী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এখন পুলিশের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe