দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, এই সাগর কেন্দ্রে বিজেপির সুমন্ত মণ্ডল হারিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরাকে। অভিযোগ, সেই হারের 'প্রতিশোধ' নিতে বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর ওপর নৃশংসভাবে অত্যাচার চালানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখন সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ ২-৩ জন দুষ্কৃতী সেই মহিলার ওপর চড়াও হয়েছিল। মহিলার চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করা হয়। শ্লীলতাহানী করা হয়। মারধর করা হয়। শাড়ি খোলারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। চিৎকার আটকাতে গলা চেপে ধরা হয়েছিল। পিঠে ঘুষি মারা হয়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই মহিলার স্বামী বিজেপি করেন, তাই পরিবারের ওপর ক্ষোভের থেকেই এই হামলা চালানো হয়।
বিজেপির অভিযোগ, এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় যোগ থাকার বিষয় অস্বীকার করেছে তৃণমূল। এদিকে সাগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী হিংসায় রাজ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটেছে এই পর্যন্ত। হাওড়া, বেলেঘাটা, নানুর থেকে নিউটাউনে ঝরেছে রক্ত। এরই সঙ্গে বহু জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় বিজেপির জয়ী প্রার্থীরা গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের অভয় প্রদান করে এসেছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও হিংসায় বিজেপি কর্মীরা জড়িত থাকলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। সঙ্গে তিনি এও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তৃণমূলের একটি অংশ এখন অপর পক্ষকে বিজেপি পতাকা হাতে মারছে। এই আবহে সদ্য তৃণমূল থেকে স্বঘোষিত বিজেপি হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে সাবধান করেছেন তিনি। এছাড়া দলের রং না দেখে প্রশাসনকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন তিনি।