BJP's WB Study in IIM Calcutta: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে এখনও দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এবার সেই সাফল্যের নেপথ্যের কৌশল, নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনাকে শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছে আইআইএম কলকাতা। প্রতিষ্ঠানটি বিজেপির নির্বাচনী প্রচার ও সংগঠন পরিচালনাকে কেন্দ্র করে একটি বিস্তৃত কেস স্টাডি তৈরির কাজ শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে ম্যানেজমেন্টের ছাত্রছাত্রীদের পাঠ্যসামগ্রী হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

আইআইএম কলকাতার মতে, আপাতদৃষ্টিতে কঠিন বলে মনে হওয়া একটি নির্বাচনে কীভাবে সুপরিকল্পিত কৌশল, কার্যকর নেতৃত্ব এবং তৃণমূল স্তরের সাংগঠনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা যায়, তা ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী পরিচালনাকে একটি বাস্তবধর্মী কেস স্টাডিতে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অলোক রায় জানিয়েছেন, বর্তমানে বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও কৌশলের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এই কেস স্টাডি শুধুমাত্র আইআইএম কলকাতার পাঠক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আইআইএমের কেস রিসার্চ সেন্টারের মাধ্যমে এটি বিশ্বের বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছেও উপলব্ধ করা হবে, যাতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলি নিজেদের পাঠ্যক্রমে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এই গবেষণা প্রকল্পে অলোক রায়ের পাশাপাশি রয়েছেন অধ্যাপক রাম্যা ভেঙ্কটেশ্বরন এবং প্রাক্তন অধ্যাপক বোধিব্রত নাগ। ইতিমধ্যেই গবেষক দল পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সুনীল বনসল, রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অলোক রায়ের বক্তব্য, অধিকাংশ নির্বাচনী সমীক্ষা যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনার কথা বলেছিল, সেখানে বিজেপির জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং তৃণমূল স্তরের সমন্বয়ে কীভাবে এই ফল এসেছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
{{/usCountry}}অলোক রায়ের বক্তব্য, অধিকাংশ নির্বাচনী সমীক্ষা যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনার কথা বলেছিল, সেখানে বিজেপির জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং তৃণমূল স্তরের সমন্বয়ে কীভাবে এই ফল এসেছে, তা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ।
{{/usCountry}}কেস স্টাডিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে বিজেপির বুথভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো, কর্মীদের মনোবল, স্থানীয় সংস্কৃতি ও সমাজভিত্তিক জনসংযোগ, কেন্দ্রভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান সহজ করতে কেস স্টাডির সঙ্গে পৃথক টিচিং নোটসও প্রস্তুত করা হবে।
তবে আইআইএম কলকাতার এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষের দাবি, ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞান বা সামাজিক গবেষণার আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জয়কে পাঠ্যক্রমের অংশ করা উচিত নয় বলেই তাঁর মত।
ফলে আইআইএম কলকাতার এই উদ্যোগ একদিকে যেমন শিক্ষাজগতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।