...
...
Next Story

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড : নিভে গেল শেষ আশাটুকু, ১৮টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে

গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড।

Published on: Feb 21, 2026, 23:45:11 IST
Advertisement

কিছুটা আশা ছিল, হয়তো কোনও দিন ফিরে আসবে ঘরের মানুষটা, ফোনের অন্য প্রান্তে বেজে উঠবে প্রিয় মানুষের কন্ঠ, কিন্তু তেমনটা হল কই। ফোন বাজল ঠিকই, তবে তা এল পুলিশের কাছ থেকে। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৬ দিন পর নিখোঁজ ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনের দেহাংশ তুলে দেওয়া হল মৃতদের পরিবারের হাতে। দেহাংশ নিতে কাঁটাপুকুর মর্গে উপস্থিত হন আত্মীয়-পরিজনেরা। তবে এখনও ন’টি দেহাংশ চিহ্নিত বা শনাক্ত করা যায়নি।

১৮টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে (Fire Department)
১৮টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হল পরিবারের হাতে (Fire Department)

শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের বাড়ির সদস্যরা শনিবার সকাল থেকেই নরেন্দ্রপুর থানায় এসে পৌঁছান। সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁরা সেখান থেকে যান কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখানেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রিয়জনদের দেহাংশ। প্রিয়জনের অবশিষ্টটুকু পাওয়ার জন্য প্রায় এক মাস ধরে অপেক্ষা করে আছেন তাঁরা। এদিন সকাল থেকেই থানার বাইরে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে পরিবারের সদস্যদের। কারও মুখে কথা নেই, কারও চোখে অশ্রু জমে আছে নিঃশব্দে। কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন সকাল সাড়ে ৬টায়, কেউ বা ৭টার মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন, শুধু প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাওয়ার আশায়। শোক, হতাশা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভার যেন স্পষ্ট তাঁদের মুখে।

গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মোট ২৭ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছিল থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, যে ১৮টি দেহাংশ শনাক্ত হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা রয়েছেন। ওই ১৮টি পরিবারের হাতে দ্রুত মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে। আইনি প্রক্রিয়া মেনে দেহাংশও দেওয়া হবে। সে জন্য শনিবার মর্গে উপস্থিত হন মৃতদের পরিজনেরা। অগ্নিকাণ্ডে পুত্র এবং ভাইকে হারিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা নিরঞ্জন মণ্ডল। ভাই গোবিন্দ মণ্ডলের বয়স ৩৯ বছর। পুত্র রামকৃষ্ণ মণ্ডল মাত্র ১৮ বছরের তরুণ। কাকা-ভাইপো কাজ করতেন আনন্দপুরের গুদামে। শনিবার কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে নিরঞ্জন বলেন, ‘ছেলের ডিএনএ-র সঙ্গে নমুনা ‘ম্যাচ’ করেছে। কিন্তু ভাইয়ের সঙ্গে ‘ম্যাচ’ হয়নি।’ যদিও ভাইয়ের বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছেন প্রৌঢ়। আগামী ১৪ মার্চ ছেলে এবং ভাইয়ের শ্রাদ্ধশান্তির দিন ঠিক করে ফেলেছেন তাঁরা।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe