Kolkata Airport bomb scare: শুক্রবারের পর এবার শনিবার। উৎসবের আবহে কলকাতা বিমানবন্দরে হুলস্থুল কাণ্ড। এবার ফুকেট থেকে কলকাতাগামী (Phuket to Kolkata flight) ইন্ডিগো বিমানের মধ্যে বোমাতঙ্ক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বিমানবন্দরে। পরপর বোমাতঙ্কের ঘটনা ঘিরে যাত্রীদের মধ্যেও শোরগোল ছড়িয়েছে। যাত্রীদের নামিয়ে বিমানটিকে আলাদা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি (Bomb threat on aircraft)। যদিও দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরেও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে কলকাতা বিমানবন্দরের মধ্যে ইন্ডিগো বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। দুপুর ৩টের কিছু পরে থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে কলকাতায় এসেছিল ইন্ডিগো বিমানটি। অবতরণের পরে যাত্রীরা বিমান থেকে বেরিয়ে গেলে কেবিন পরিষ্কার করতে ভিতরে প্রবেশ করেন বিমানকর্মীরা। বিমানের কেবিনের শৌচালয় পরিষ্কার করার সময়ে বিষয়টি নজরে আসে তাঁদের। সূত্রের খবর, শৌচালয়ের আয়নায় লেখা ছিল ‘বম্ব ইনসাইড এয়ারক্র্যাফ্ট।’ অর্থাৎ, বিমানের ভিতরে বোমা রয়েছে। বিষয়টি নজরে আসতেই বিমানবন্দরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৎক্ষণাৎ বিমানটিকে একটি ‘আইসোলেশন বে’-তে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় বিমানবন্দরে কর্তব্যরত সিআইএসএফ জওয়ানদের। তল্লাশিতে নামে বম্ব স্কোয়াডও। কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
বিমানের শৌচাগারের আয়নায় কে বা কারা ওই বার্তা লিখল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যাত্রীদের তালিকা এবং বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ এই কাজ করে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। শুক্রবারও ভুয়ো হুমকি ঘিরে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে মহিলাদের শৌচালয়ে একটি হুমকি-চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল। সেখানেও দাবি করা হয়েছিল, বোমা রাখা আছে। যদিও সেটিও ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। এদিকে, পরপর দু’দিন, দুই জায়গায় বোমার হুমকি ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এর নেপথ্যে কোনও সংগঠিত চক্র থাকতে পারে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্কুলে এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনে বোমাতঙ্ক ছড়ানোর নেপথ্যে সংগঠিত চক্রের যোগ মিলেছিল। বছর দুয়েক আগে গুজরাটের আহমেদাবাদে অন্তত ১৪টি স্কুলে একসঙ্গে বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছিল। পরে ওই ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তান যোগের ইঙ্গিত মিলেছিল। এক্ষেত্রেও তেমন কোনও সংগঠিত চক্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।