নির্বাচনের সময় বাংলায় শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর বিএসএফ জওয়ান। আবার নির্বাচনের সময় সীমান্ত সুরক্ষার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে বিএসএফকে। তবে ভোটের দায়িত্বে এত জওয়ান চলে যাওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিএসএফ শীর্ষ কর্তাদের কপালে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় দুই লক্ষ জওয়ান বাংলার নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন হতে চলেছেন। যার মধ্যে বিএসএফের জওয়ানদের সংখ্যা অনেকটাই। এই আবহে সম্প্রতি হাসনাবাদে যান বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার। এরই সঙ্গে আবার রাজারহাটে অবস্থিত বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সদর দফতর এবং দক্ষিণেশ্বরের আলমবাজারে বিএসএফের সেক্টর সদর দফতরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি।

এদিকে হাসনাবাদে সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিএসএফ ডিজি। সেই মতো দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের কর্তাদের বেশ কিছু নির্দেশ দেন তিনি। জানা গিয়েছে, রাতের নজরদারিতে টহলরত জওয়ানরা যাতে উচ্চমানের দূরবীন ব্যবহার করেন, তার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিএসএফ ডিজি। এদিকে সীমান্তে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে বলেছেন তিনি। এরই সঙ্গে সীমান্তবর্তী নদীপথগুলিতেও নজরদারি জোরদার করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া অধিকাংশ আসনে জয়লাভ করেছিল কট্টরপন্থী জামাতে ইসলামি। এই পরিস্থিতিতে ভোটের মাঝে এপার বাংলায় যাতে কট্টরপন্থীদের অনুপ্রবেশ না ঘটে, তার জন্য তৎপর বিএসএফ। এছাড়া মালদা এবং মুর্শিদাবাদে যাতে ভোটের সময় অশান্তি ঘটাতে কোনও বাংলাদেশি কট্টরপন্থী এপারে অনুপ্রবেশ না করতে পারে, তার ওপরও বিশেষ নজর থাকবে। এর আগে মুর্শিদাবাদের হিংসার সময় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের হাত ছিল বলে অভিযোগ করেছি বিজেপি।
এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল শব্বির আহমেদ লোন নামে এক কাশ্মীরি জঙ্গিকে। ঢাকা থেকে ভারত বিরোধী মডিউল চালাত শব্বির। ২০০৭ সালে একটি জঙ্গিযোগ মামলায় গ্রেফতার হয়েছিল সে। পরে জামিন পেয়ে ২০১৯ সালে সে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছিল। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফফরাবাদে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়েছিল শব্বির। এই শব্বিরের মডিউলের ৭ বাংলাদেশি সহ ৮ জনকে সম্প্রতি তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। সম্প্রতি দিল্লির বিভিন্ন অংশে, বিশেষ করে দিল্লি মেট্রো নেটওয়ার্কে উস্কানিমূলক পোস্টার লাগানো হচ্ছিল। সেই ঘটনার তদন্তে নেমেই এই মডিউলটির পর্দা ফাঁস হয়েছিল। ভারতের বেশ কিছু জায়গায় হামলার ছক ছিল এই সব বাংলাদেশি জঙ্গিদের। এই আবহে সীমান্ত নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে বিএসএফের তরফ থেকে।