BSF on Sundarban Border: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে নতুন সরকার। সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তরের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের স্পর্শকাতর সুন্দরবন জলসীমান্ত পরিদর্শনে এলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ডিজি প্রবীণ কুমার। তিন দিনের এই সফরে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদীপথ ও জলাভূমি দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। স্থলসীমান্তের মতো এখানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়। ফলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে নদীপথে নজরদারি আরও বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিজি প্রবীণ কুমার সফরের সময় বসিরহাট মহকুমার রায়মঙ্গল, কালিন্দী, গোমতী-সহ একাধিক সীমান্তবর্তী নদীপথ নৌকায় ঘুরে পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি হেমনগর, হাসনাবাদ, ঘোজাডাঙ্গা ও কৈজুড়ি সীমান্ত এলাকাও ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনের পর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএসএফ প্রধান। সেখানে সীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। নদীপথে অতিরিক্ত বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন, দ্রুতগতির আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত টহল বোটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাতের অন্ধকারে নজরদারির জন্য উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্তবর্তী নদীপথে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্লাডলাইট বসিয়ে রাতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। সেখানে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছ থেকেও সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিএসএফ ডিজির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উদ্যোগে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে। সেখানে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছ থেকেও সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিএসএফ ডিজির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সীমান্তবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়। স্থানীয়দের উদ্দেশে বিএসএফ ডিজি বলেন, সীমান্ত এলাকায় কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি, অনুপ্রবেশ বা পাচারের ঘটনা চোখে পড়লে তা অবিলম্বে বিএসএফকে জানাতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাই সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে বিএসএফ সর্বদা পাশে থাকবে।
একইসঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও কঠোর বার্তা দেন প্রবীণ কুমার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও বিএসএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং বজায় রাখার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর জলসীমান্তে আধুনিক প্রযুক্তি, কড়া নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাকে সামনে রেখে সীমান্ত সুরক্ষার নতুন কৌশল কার্যকর করার ইঙ্গিতই মিলল বিএসএফ প্রধানের এই সফরে। আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে এই পদক্ষেপগুলি কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর।